বিপৎসীমা পার করল তিস্তা

তিস্তার পানি বেড়ে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। ছবি: আগামীর সময়
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বৃষ্টিতে বিপৎসীমা পার করেছে তিস্তা নদী। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে বইছিল এর পানি। দুপুর ১২টায় পানি ছিল ১৫ সেন্টিমিটার নিচে। তবে বিকাল ৩টায় বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে এক সেন্টিমিটার বেড়েছে পানির উচ্চতা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বললেন, ‘কয়েকদিন ধরে উজানের ঢলে ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বাড়ছিল-কমছিল। তবে এ বছরে এই প্রথম পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।’
হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় ব্যারাজের ভাটিতে তিস্তা তীরবর্তী রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে তিস্তা সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধে ধরেছে ভাঙন। কোলকোন্দ ইউনিয়নে ডানতীর বাঁধ রক্ষায় নির্মিত গ্রোয়েনে আঘাত হানছে তীব্র স্রোত। বিলীন হয়েছে প্রায় ২০ একর আবাদি জমি।
নিম্নাঞ্চলে পানি উঠতে শুরু করায় আতঙ্কে আছেন নদীপাড়ের মানুষ। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলছেন, ‘কেবলই হু হু করে পানি আসতে শুরু করেছে। এই ধারা চলতে থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়বে।’
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলাসহ কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চচলও দ্রুত প্লাবিত হয়ে পড়ছে। নীলফামারী ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান (ভারপ্রাপ্ত) জানালেন, চরগ্রামসহ নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে প্রায় এক হাজার পরিবারের বাড়িঘর তলিয়েছে। দ্রুত তাদের পুনর্বাসনের অনুরোধ জানান তিনি।
উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন নিশ্চিত করেছেন, পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের সাত গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার এখন পানিবন্দি। অনেকেই সরে গেছে নিরাপদ আশ্রয়ে।




