ঝড়ে ঘর হারিয়ে পাঁচ মাস ধরে আশ্রয়হীন রাবেয়া বেগম

ভাঙা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই কাঁদছিলেন বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম। ছবি: আগামীর সময়
৬৭ বছর বয়সী রাবেয়া বেগম। মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে ছোট্ট একটি ঘরে তার বসবাস। থাকেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের সাকোয়া এলাকার রেলওয়ে কলোনিতে। গত ঈদুল আজহার পর ঝড়ে সেই বসতঘরের ওপর উপড়ে পড়ে একটি বড় জামগাছ। এতে টিনের ঘরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গাছটি ছিল রেলওয়ের জমির। তাইতো কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাছটি সরানো সম্ভব হয়নি। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ পাঁচ মাস। এই সময় ধরে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে কখনো আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, কখনো অন্যের আশ্রয়ে দিন কাটছে তার।
অবশেষে আজ সোমবার টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে গাছটি অপসারণের কাজ শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভাঙা ঘরটি মেরামত করে সেখানে ফেরার সামর্থ্য নেই রাবেয়া বেগমের। এখন তার একটাই চাওয়া, বসবাসের উপযোগী একটি ঘর।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাবেয়া বেগম তার মানসিক প্রতিবন্ধী একমাত্র ছেলেকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমিতে বসবাস করছেন। পরিবারের আয়ের নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস না থাকায় নিজের অর্থে বিধ্বস্ত ঘরটি মেরামত করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়নি তার।
ঘটনার পর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবীর ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সে সময় তারা রাবেয়া বেগমকে পাঁচ হাজার টাকা ও কিছু খাদ্যসামগ্রী সহায়তা দেন। পাশাপাশি ঘর মেরামতের জন্য টিনসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। তবে ইউএনও বদলি হয়ে যাওয়ায় সেই আশ্বাস আর বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানিয়েছেন রাবেয়া বেগম।
রাবেয়া বেগম বললেন, ‘ঘরের আসবাবপত্রসহ সবকিছু ভেঙেচুরে গেছে। বৃষ্টির পানিতে যা অবশিষ্ট ছিল, সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। আমার যাওয়ার আর কোথাও জায়গা নেই। অনেক দিন ধরে মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরছি। কখনো আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এভাবে আর কত দিন থাকব? আমার ঘরটি ঠিক করে দেওয়ার মতো কেউ নেই।’
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন মণ্ডল জানিয়েছেন, রাবেয়া বেগমের অসহায়ত্ব দীর্ঘদিনের। ঝড়ে ঘরটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর তার দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। নিজের সামর্থ্যে ঘরটি মেরামত করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে তার বসবাসের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা জরুরি।
এ বিষয়ে ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে রাবেয়া বেগমকে সহযোগিতা করা হবে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলে তার বিধ্বস্ত ঘরটি আবার বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব হবে। এখন উপজেলায় ইউএনও নেই। নতুন ইউএনও যোগদান করলে সহযোগিতার বিষয়টি বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।




