কুশিয়ারায় বিলীন চলার পথ, আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ
- বিয়ানীবাজারে নদীভাঙনে বিচ্ছিন্ন দেউল গ্রাম

ছবি: আগামীর সময়
সিলেটের বিয়ানীবাজারে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে উত্তর দেউল গ্রামের একমাত্র চলাচলের পথ। এই সড়কটি বিয়ানীবাজার শহরের যোগাযোগের একমাত্র পথ। একই সঙ্গে ভাঙছে বসতভিটা ও কৃষিজমি। ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় অনেকে ছুটছেন আশ্রয়ের খোঁজে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জনপদের মানুষের এখন একদিকে নিরাপদ আশ্রয়ের দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার দুর্ভোগ।
নদীভাঙনে দুদিনের ব্যবধানে পৈতৃক ভিটার একাংশ হারিয়েছেন উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর দেউল গ্রামের রাহেল আহমদ। ঘরের অবশিষ্ট অংশও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চোখের সামনে শেষ সম্বলটুকু হারানোর বেদনা নিয়ে এখন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন তিনি। রাহেলের মতো উত্তর দেউল গ্রামের আরও অনেকে নদীভাঙনের মুখে পৈতৃক ভিটা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন।
নিজের ঘর হারানোর বেদনার কথা জানালেন রাহেল আহমদ, ‘অনেক কষ্টে আত্মীয়দের সহযোগিতায় পাকা ঘর নির্মাণ করেছিলাম। নদীভাঙনে বাবার রেখে যাওয়া জমির সঙ্গে সেই ঘরও হুমকির মুখে পড়েছে। চোখের সামনে নিজের ভিটা কুশিয়ারা নদীতে হারাতে হয়েছে।’
নদীভাঙনের ক্ষতি শুধু বসতবাড়িতে সীমাবদ্ধ নেই। কুড়ারবাজার ইউনিয়নের মাওদপুর এলাকার বাসিন্দা এমরান হোসেন জানালেন, কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে তাদের এলাকার একটি জামে মসজিদ এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে।
কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তোঁতার ভাষ্য, তার ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা নদীভাঙনের কবলে পড়ছে। গত দুই থেকে তিন দিনে রাহেল আহমদের পৈতৃক ভিটার একাংশ ও দেউল গ্রামের একমাত্র যাতায়াতের সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
সিলেট পাউবোর তথ্য বলছে, কুশিয়ারা নদীর জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার দুই পাড়ের ৩২ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত ও সংস্কারের জন্য প্রায় দুই বছর আগে ১৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। পরে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রকল্প পাঠানোর নির্দেশনা দিয়ে সেটি ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে নতুন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সিলেট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদের ভাষ্য, ইউএনও ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাকে ভাঙনের বিষয়টি জানিয়েছেন। দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের সুবিধার্থে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।



