২০ বছর ধরে ভুয়া সনদে শিক্ষকতা, দায় কার

ছবি: আগামীর সময়
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ভুয়া নিবন্ধন সনদে ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা। বিদ্যালয়টি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। অভিযুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা।
২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদ জাল ধরা পড়ে। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে রেবেকার নিবন্ধন সনদটি ভুয়া বলে উল্লেখ করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে ওই প্রতিবেদনের পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
বিদ্যালয় থেকে জানায়, রেবেকা সুলতানা ২০০৬ সালে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পান। সহকারী এ শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ে ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের স্মারক নং-৩৭.১৯.০০০০.০৩৬.১৬.০৫৪.২২.৫৬ মোতাবেক এনটিআরসিএ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়।
এর প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের স্মারক নং-৩৭.০৫.০০০০.০১০.০৫.০০১.২০/৯২৪ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, তার সনদটি সঠিক নয়। ফলে তার নিয়োগ বিধি সম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্য প্রাপ্য নন।
এছাড়া ২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তার গ্রহণ করা বেতন ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানার ভাষ্য, ‘তিনি নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়েছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে কেন তার সনদকে জাল বলা হয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি পুনরায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।’
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বললেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদটি জাল বা ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানান, জাল সনদের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। তবে তার দপ্তরে এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কপি এখনও পৌঁছায়নি। সাধারণত এসব কপি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আসে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অনুলিপি দেওয়া হয়। তিনি বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমানের মন্তব্য, ‘বিষয়টি অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সঠিকভাবে তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অভিযুক্ত শিক্ষিকার নিবন্ধন সনদ জাল বা ভুয়া হওয়ার অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ।



