ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তার মধ্যে আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন

আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন। ছবি: আগামীর সময়
ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তার মধ্যে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বন্যতলা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝোড়ো হাওয়া ও নদীর উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে বাঁধের প্রায় ৩৫০ ফুট অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ভাঙন কবলিত স্থানে কোথাও কোথাও বাঁধের মাত্র দেড় ফুট অংশ অবশিষ্ট রয়েছে। এতে প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন। এরপর হাজারো মানুষ নিজেদের বসতভিটা ও জনপদ রক্ষায় ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা ও জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধের ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করেন। রাতেও চলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে নদীর পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়াসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ মেরামতের জন্য হাজার হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সেগুলো সময়মতো ব্যবহার করা হয়নি। তাদের দাবি, আগেভাগে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি এতটা নাজুক হতো না।
বন্যতলার ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু জানিয়েছেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসক ও শ্যামনগরের ইউএনওকে বিষয়টি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।




