বাহুবল
ঢলে ভেসে গেল ৯৫ কোটি টাকার মাছ

সংগৃহীত ছবি
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের তিন উপজেলায় অন্তত ১ হাজার ১০০টি মাছের খামার ও ব্যক্তিগত পুকুর প্লাবিত হয়ে মাছ ভেসে গেছে। এতে খামারিদের প্রায় ৯৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাহুবল, হবিগঞ্জ সদর ও মাধবপুর উপজেলার চাষিরা।
বাহুবল উপজেলার ধুলিয়াখাল সড়ক এলাকার খামারি আব্দুল আহাদ কাজল ৪০ বিঘা জলাশয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাছ চাষ করেছিলেন। গত দুই দিনের পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি উপচে খামারে ঢুকে প্রায় সব মাছ ভেসে যায়। ফলে চলতি মৌসুমে তার পুরো বিনিয়োগ হারিয়েছে।
একইভাবে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কটিয়াদী এলাকার মলাই মিয়ার ২০ বিঘা জলাশয়ের প্রায় ৫ লাখ, বনদক্ষিণ গ্রামের কাজল মিয়ার ১০ বিঘা পুকুরের প্রায় ৩ লাখ এবং চরহামুয়া এলাকার আব্দুল আহাদের ৩০ বিঘা জলাশয়ের প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে।
জেলা মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বন্যায় মাধবপুর উপজেলার ১৫০টি, বাহুবলের ৪৫০টি এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৫০০টিসহ মোট প্রায় ১ হাজার ১০০টি খামার ও ব্যক্তিগত জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অধিদপ্তর জানায়, গত অর্থবছরে জেলায় উন্মুক্ত জলাশয় থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টন এবং ব্যক্তিগত খামার থেকে প্রায় ২৩ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়। চলতি অর্থবছরেও একই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বন্যার কারণে ব্যক্তিগত খামারের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল আলম বললেন, বন্যায় ব্যক্তিগত খামারগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে হবিগঞ্জ সদরে প্রায় ৫০ কোটি, বাহুবলে ৩০ কোটি এবং মাধবপুরে ১৫ কোটি টাকাসহ মোট প্রায় ৯৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। তবে ভেসে যাওয়া মাছের একটি অংশ উন্মুক্ত জলাশয়ে বেড়ে উঠবে। ফলে জেলার মোট মাছ উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।





