ঝালকাঠিতে কালবৈশাখী ও বৃষ্টিতে ডুবছে বোরো ধান

ছবি: আগামীর সময়
কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে ঝালকাঠি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও আধাপাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ ক্ষেত পানির নিচে ডুবে আছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পর শেষ সময়ে প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণে চলতি মৌসুমে লাভের বদলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন জেলার কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠিতে এবার ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৯২ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ৯টি কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চললেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। সদর ও নলছিটি উপজেলায় আবাদ বেশি হওয়ায় এই দুই এলাকায় ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বোরোর পাশাপাশি মুগ ডাল ও মরিচসহ অন্যান্য রবি শস্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দীর্ঘশ্বাস এখন মাঠজুড়ে। নলছিটির শীতলপাড়া এলাকার কৃষক মামুন হোসেন আক্ষেপ করে জানান, ৫৫০ শতাংশ জমিতে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করেছেন তিনি, যার পুরোটাই এখন পানির নিচে। ধান কাটতে না পারায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। পরমপাশা এলাকার কৃষক সবুজ খান মন্তব্য করেন, ৪ কুড়া জমির ধান ঝড়ে শুয়ে পড়েছে। এ বছর খরচ এমনিতেই বেশি ছিল, এখন সব তলিয়ে যাওয়ায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
একই সংকটের কথা তুলে ধরেন সদর উপজেলার হরিপাশা গ্রামের মোসলেম হাওলাদার। তার ১৬০ শতক জমির ব্রি-৭৪ এবং ১২০ শতক জমির হাইব্রিড ধান সম্পূর্ণ নিমজ্জিত। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের কারণে এবার সেচ খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। বাড়তি খরচে ফলানো সোনার ফসল এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানান, যেসব ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে, তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আহমেদ এবং নলছিটির উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল মৃধা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও পানি নিষ্কাশনের ওপর জোর দিচ্ছেন। তবে কৃষকদের মতে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শ্রমিক ও যন্ত্রপাতির সাহায্যে দ্রুত ধান ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয়ের ভার আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মারে দিশেহারা ঝালকাঠির কৃষকেরা।




