ভারতের আন্দোলন অভ্যুত্থানে যাবে কি না সন্দেহ আছে : সারজিস

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন সারজিস আলম— সংগৃহীত
ভারতের চলমান আন্দোলন অভ্যুত্থানের দিকে যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়ন ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্র শক্তি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেছেন, ‘ভারতের আন্দোলন অভ্যুত্থানের দিকে যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। বিজেপি একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং ডানপন্থি রাজনৈতিক দল। রাহুল গান্ধীকে যেভাবে চ্যাংদোলা করে নিয়ে গেলো, এটার ইম্পেক্টটা পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে, এই বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অথবা চায়ের দোকান বা অন্য কোথাও তর্ক করতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে চলে যায়। বিষয়টি ওই সময় অবান্তর মনে হলেও আসলে এটার প্রয়োজন আছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিএনপি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বিএনপি সরকারের একটি পলিসি নেওয়া উচিত। যেখানে সেখানে দোকানের মতো বিশ্ববিদ্যালয় না খুলে, যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে, সেগুলোকে কীভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা যায়, গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা যায়, সেদিকে তাদের নজর দেওয়া উচিত।’
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধার চিত্র তুলে ধরে সারজিস আলম বললেন, ‘বর্তমানে এখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অথচ ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি করে হল। ছেলেদের হলে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ জন এবং মেয়েদের হলে প্রায় ২০০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
‘শিক্ষার্থীদের যদি সকালে ক্লাস শেষে আবার শহরের মেসে গিয়ে গাদাগাদি করে থাকতে হয়, তবে একটি সাধারণ স্কুল-কলেজের সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তফাত কোথায় রইল? একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার-পাঁচ বছর পর শিক্ষার্থীরা যে সর্বজনীন প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের ভাণ্ডারে সমৃদ্ধ হয়ে বের হবেন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে তা কখনোই সম্ভব নয়’— যোগ করেন তিনি।
জাতীয় ছাত্র শক্তির জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক লিটন আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম সদস্যসচিব লুৎফর রহমান এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র শক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান। এতে জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।





