চকরিয়ায় সংরক্ষিত বন রক্ষায় রুল

সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাধীন ‘চকরিয়া-সুন্দরবন’ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। চকরিয়া-সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্তকরণ (ডি-রিজার্ভ) সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনগুলো এবং এই বনভূমি পুনরুদ্ধারে সরকারের সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এই রুলের জবাব চেয়েছেন হাইকোর্ট।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা জনস্বার্থমূলক একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে গত রবিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার আশরাফ আলী ও ব্যারিস্টার রুমানা শারমিন।
রিট আবেদন থেকে জানা যায়, ‘চকরিয়া-সুন্দরবন’ ঐতিহাসিকভাবে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার একটি বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনভূমি, যা কালক্রমে অপরিকল্পিত ইজারা প্রদান, অবৈধ দখল এবং গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডি-রিজার্ভেশনের ফলে প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। একাধিকবার এ বনভূমি পুনরুদ্ধারে স্মারক জারি করা হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। যা বন আইন, ১৯২৭ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৮ক অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ অবস্থায় ‘চকরিয়া-সুন্দরবন’ রক্ষা, অবৈধ দখল ও ইজারা থেকে মুক্ত এবং সম্পূর্ণ বনভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বেলা ওই জনস্বার্থমূলক রিট পিটিশনটি করে।
কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকায় বিস্তৃত ২১ হাজার ২০ একর সংরক্ষিত ‘চকরিয়া-সুন্দরবন’ বনভূমি। এখান থেকে সব অবৈধ ইজারা ও বরাদ্দ বাতিল এবং সব অবৈধ ও অননুমোদিত দখলদার উচ্ছেদ করে এই বনভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে কেন নির্দেশ প্রদান করা হবে না, রুলে তা-ও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে ভূমি সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু সচিব, মৎস্য ও প্রাণী সচিব, কৃষি সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়।




