দাউদকান্দি
প্রায় বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ‘মটকি’

ছবি: আগামীর সময়
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির তৈরি মটকা বা মটকি। এক সময় এটি সবার বাড়িতে এক-দুইটা থাকলেও এখন খুব একটা দেখা যায় না। সারা দেশের মতো কুমিল্লার দাউদকান্দির প্রতিটি ঘরে এক সময় দেখা যেত বিশাল সব মটকি। তাতে রাখা হতো চাল বা শুকনো খাদ্যপণ্য। এখন হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই মাটির পাত্রের কদর।
উপজেলার মারুকা, বিটিশ্বর, পাঁচগাছিয়া এই তিনটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে খোঁজ নিয়ে তিনজনের বাড়িতে মটকি পাওয়া গেছে।
উপজেলার মারুকা ইউনিয়নের ভরণপাড়া গ্রামের ওমর ফারুক সরকার বলেন, ‘আমার দাদা আদম আলী সরকারের সময় আমাদের ঘরে ধানের গোলায় ১০-১২ মণ পর্যন্ত চাল বা অন্য কিছু রাখতে পারতাম- এমন মটকি ছিল। দাদার সময়ে এগুলোর প্রচলন থাকলেও বাবার সময়ে এসে ধানের গোলা হারিয়ে গেছে। আমাদের সময় এসে মটকিও হারিয়ে যেতে বসেছে।’
উপজেলার গৌরীপুর বাজারের মাটির তৈরি হাঁড়ির কারিগর রবীন্দ্র সাহা বলেন, ‘এখন আমাদের উপজেলায় ছাড়াও দেশের গৃহস্থবাড়িতে প্লাস্টিক জাতীয় পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ৯০-এর দশকে আমরাও মটকি তৈরি করে নৌকায় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করতাম। এখন আর মটকি তৈরি করি না। কেউ অর্ডার দিলে তৈরি করে দিই।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘এক সময় মটকার প্রচলন ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনের মানোন্নয়ন ঘটায় এসব মটকি এখন বিলুপ্তপ্রায়।’








