বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, ৩ ‘ভাড়াটে খুনি’ গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার তিন ভাড়াটে খুনি
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে (৫৮) হত্যার ঘটনায় তিন ‘পেশাদার’ খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে মিঠামইনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— হেলাল, মহিউদ্দিন ও জাকির। তাদের মধ্যে হেলাল বরগুনা জেলার বামনা থানার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে। অন্য দুজনের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদরের কামালপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় তিন দুর্বৃত্ত। ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় তাকে। হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় তাদের। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি নেতাকে হত্যার উদ্দেশে ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল তিন খুনিকে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে।
ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ আলীর ছেলে বিএনপি নেতা হাদিস মিয়া (৩৮)। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযানে ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা তিনজন পেশাদার খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বললেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ঢাকা থেকে মিঠামইনে এসেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
তিনি জানালেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনাকারী এবং এর পেছনে কারা রয়েছে তা উদঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ।





