কুমিল্লায় বুলেট বৈরাগী হত্যা: পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিহত বুলেট বৈরাগী
কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনের স্থায়ী ঠিকানা তদন্তে খুঁজে পায়নি পুলিশ। তাদের ভাসমান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আলম শাহ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার পাঁচ আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নাওতলা গ্রামের মৃত নুর মিয়া প্রকাশ নুর ইসলামের ছেলে মো. সোহাগ (৩৪) এবং আমড়াতলী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে এমরান হোসেন প্রকাশ হৃদয় (৩৪)। বাকি তিন ভাসমান আসামি হলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ধর্মপুর এলাকার মৃত হারুন মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), আড়াইওড়া এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) এবং ধর্মপুর এলাকার মৃত সজল মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২)। তাদের কারও স্থায়ী ঠিকানা তদন্তে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি সুশীল বৈরাগীর ছেলে। চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জের পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন বুলেট বৈরাগী। যাত্রাপথে তিনি মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরদিন সকালেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২৫ এপ্রিল সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। পরে মরদেহটি থানায় নেওয়া হয়। খবর পেয়ে বুলেট বৈরাগীর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা লুট করে নেয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা লিলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে গত ২৫ এপ্রিল কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পাঁচ মাস পাঁচ দিন তদন্ত শেষে পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে।
কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান মঙ্গলবার জানান, আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে বিচারের জন্য মামলাটি কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন।



