কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ভুক্তভোগীকে স্বামীর সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেন অভিযুক্তের স্ত্রী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১৩ বছরের কিশোরীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল কাশেম (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পৌর শহরের বালিকান্দি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত শনিবার রাতে রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট পানি ফেলতে গেলে কিশোরীর মুখ চেপে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্ত কাশেমের স্ত্রী পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখান এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই কিশোরীকে তার ৫০ বছর বয়সী স্বামীর সঙ্গেই বিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত প্রস্তাব দেন। এসব হুমকি ও সামাজিক চাপের কারণে পরিবারটি শুরুতে থানায় যেতে সাহস পাচ্ছিল না।
পরে মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও পারছিল না। পরদিন রবিবার ওই কিশোরী প্রতিবেশী এক নারীকে ঘটনাটি জানায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালান। ঘটনা জানাজানি হলে ভবিষ্যতে মেয়ের বিয়েতে সমস্যা হবে এমন ভয় দেখিয়ে পরিবারটিকে আইনি পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে এলাকায় নারীদের উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করার পুরনো অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার অত্যন্ত অসচ্ছল। তার বাবা ঝালমুড়ি বিক্রি করেন এবং মা মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান।
মঙ্গলবার সকালে সংবাদকর্মীরা এলাকায় গেলে কিশোরী তাদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরে পুলিশকে জানানো হলে দুর্গাপুর থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনা নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেেন, কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে লিখিত এজাহার নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার সকালে আসামিকে বিজ্ঞ আদালত পাঠানো হবে।



