চাল চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে, জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি

ছবি: আগামীর সময়
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১২৮ নম্বর কৃষ্ণাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে নির্মিত টিনশেড ঘরটিও এখন জরাজীর্ণ। সামান্য বৃষ্টিতেই চাল চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষের মেঝে ভিজে একাকার হয়ে যায়। যার ফলে বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বজ্রপাতের আতঙ্কে দিন কাটান় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এমন অনিরাপদ পরিবেশের কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠে বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১০৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মূল ভবনের বিম ও স্তম্ভে বিশালাকার ফাটল ধরেছে এবং মরিচা ধরা রড বেরিয়ে এসে পিলারের কঙ্কালসার অবস্থা তৈরি হয়েছে। যদিও ভবনটিকে অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা সেখানেই দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন। তিন বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় একটি টিনশেড ঘর তৈরি করা হলেও বর্তমানে সেটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় চাল দিয়ে পানি পড়ায় মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং অনেক সময় কক্ষের ভেতর ঝরনার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের এই শোচনীয় অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় অভিভাবক রাজিব শেখ তার উদ্বেগের কথা জানিয়ে বললেন, ‘স্কুলের পাশে বাড়ি হওয়ায় বাচ্চাদের এখানে ভর্তি করেছি; কিন্তু এখন পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে বা বাতাস শুরু হলে আমাদের স্কুলে দৌড়াতে হয়। কারণ ক্লাস করার মতো কোনো পরিবেশ সেখানে নেই। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আমাদের সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহারের ভাষ্য, ২০১৯ সাল থেকে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। পরে নির্মিত টিনশেডটিও এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। বৃষ্টি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী— সবাই ভিজে ক্লাস করতে বাধ্য হই। একসময় এই স্কুলে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ১০০ জনে এসে ঠেকেছে। দিন দিন শিক্ষার্থী কমতে থাকায় তারা সরকারের কাছে দ্রুত একটি নতুন ভবনের জোরালো দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদানের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং একটি নতুন ভবনের জন্য এরই মধ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই সংকটের সমাধান হবে।
অন্যদিকে গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. জ্যোৎস্না খাতুন বললেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অকেজো ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান টিনশেডটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং নতুন ভবনের অগ্রাধিকার তালিকায় বিদ্যালয়টির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।




