শিক্ষক মিলনায়তনে অধ্যক্ষ-সহকারী অধ্যাপকের মারামারি, ভিডিও ভাইরাল

ছবি: আগামীর সময়
কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে হাতাহাতি। এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গত ৯ এপ্রিল দুপুরে কবিরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ ও সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনের মধ্যে ঘটেছে এই মারামারির ঘটনা।
ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক মিলনায়তনে অধ্যক্ষের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে আছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ। তার বাম পাশে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন এবং ডান পাশে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম। এ সময় পিয়ন আব্দুর রহিম তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের আসন থেকে উঠে সহকারী অধ্যাপক মিলনকে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর উভয়ের মধ্যে কিল-ঘুষি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলামের ভাষ্য, মার্চের ২ তারিখ কলেজের শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জানালেও তিনি ব্যবস্থা নেননি। পরে গত ৯ এপ্রিল ফিল্টারটি মেরামতের কথা আবার জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী অধ্যাপক মিলনের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ সময় মিলন প্রতিবাদ করলে অধ্যক্ষ তার গায়ে হাত তোলেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন জানালেন, শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার নিয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ মোটরের পানি পান করার পরামর্শ দেন। পরে চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার ওপর হামলা চালান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর মামুনুর রশীদ বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন। কলেজের সব আর্থিক কাজ তিনি একা করতে চান, কাউকেই বিশ্বাস করেন না। কলেজের ১৭-১৮ জন মাস্টাররোলের কর্মচারীকে বেতন নিয়ে হয়রানি করছেন। শিক্ষকদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন।
তারা আরও জানান, অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে গত ১১ মে কলেজের ১১ শিক্ষকের স্বাক্ষরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদের ভাষ্য, যে শিক্ষকের সঙ্গে আমার মারামারি হয়েছে তিনি কি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ না করলে আপনারা এত আগ্রহ দেখাচ্ছেন কেন? এতে তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নিতে চাচ্ছে।
এ ছাড়া কলেজের তহবিল সংকটের কারণে মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।




