জলজটে খুলনা নগরীর সড়কে হাঁটু পানি

ছবি: আগামীর সময়
বুধবার রাতের টানা বৃষ্টিতে খুলনায় নগরীর কিছু এলাকার সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে। তীব্র জলজটে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রিকশা ও ইজিবাইকচালক সবাইকে চরম দুর্ভোগে পড়েন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরিদর্শন কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, খুলনায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে নগরীর বয়রা বাজার মোড় থেকে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের (নেভি স্কুল মোড়) পর্যন্ত, নতুনবাজার ও রয়্যাল মোড় হাঁটু পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির নিচ তলায় পানি প্রবেশ করে। এ ছাড়া অফিসগামী ও কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রিকশা ও ইজিবাইকচালকদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মামুন শেখ বলেছেন, বর্ষায় তার দোকানে পানি ঢুকেছে। এতে অনেক টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার।
বাস্তুহারা কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী আব্দুর রব জানিয়েছে, একটু ভারী বৃষ্টি হলেই বাজার ডুবে যায়। ফলে বাজারের ব্যবসায়ীদের নানা রকমের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
নগরীর কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে তাদের বাড়ির নিচতলায় পানি প্রবেশ করেছে। এতে তাদের ঘরের জিনিসপত্রের ক্ষতি হয়েছে। জমে থাকা পানিতে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে ঘর।
টুটপাড়া এলাকার ইজিবাইকচালক জিয়াউল আলম বললেন, পেটের দায়ে সারারাত বৃষ্টির পরও রাস্তায় নামতে হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ইজিবাইক চালাতে হয়েছে। ব্যাটারিতে পানি ঢুকে গেলে গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অফিসে যাওয়ার পথে আবুল কালাম জানালেন, সারারাতের বৃষ্টিতে গরম থেকে স্বস্তি মিলেছে। তবে খুলনার রয়্যাল মোড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। আজও সেখানে জলাবদ্ধতার কারণে অফিসে যেতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। প্রতি বর্ষায় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হয়।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্ল্যাণিং কর্মকর্তা আবির-উল-জব্বারের ভাষ্য, ড্রেন পরিষ্কার নেই, অনেক স্লুইসগেট বন্ধ গেছে। খাল ভরাট হয়ে গেছে , নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে-এসব কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে জলাবদ্ধতার সমাধানে ৮২৩ কোটির প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ ছাড়া আরো ৪০০ কোটি টাকা কাজ শিগগির শুরু হবে। কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন হবে।





