স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিলেন এমপি

ফরিদপুরে বসতঘরের জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।
গ্রেপ্তার তরুণের নাম রনি বেপারি (১৮)।
গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদরপুর থানার ওসি আব্দুল আল মামুন শাহ্।
গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন সংসদ সদস্য শহিদুল।
তিনি বলেছেন, ‘এমন জঘন্য ও পাশবিক অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবার যেন দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পায়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করব।’
শনিবার দুপুর ৩টার দিকে স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামের একটি বসতঘর ঘেরাও করে ১০–১৫ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। জানালা ভেঙে ওই স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে যায় তারা। স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ভয়ভীতি ও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। রাত প্রায় ৩টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুই অভিযুক্তকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করে। পরে গণপিটুনির পর তাদেরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন, হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
গত শুক্রবার সদরপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৬–৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা।
ওই স্কুলছাত্রীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি মামুন বলেছেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।’








