জুনে কম বৃষ্টি, চলতি মাসের শুরুতে নিম্নচাপ

জুনে চট্টগ্রামে মাত্র ৩৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ছবি: রনি দে
জুন মাসে সারা দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। সারা দেশে গড়ে বৃষ্টি হয় ৩১২ মিলিমিটার। এ কারণে জুন মাস স্বাভাবিকের চেয়ে তুলনামূলক উষ্ণ ছিল। সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রামে। এখানে স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ কম।
জুনে চট্টগ্রামে মাত্র ৩৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। গত বছর একই মাসে চট্টগ্রামে বৃষ্টি হয় ৬৭২ মিলিমিটার। ২০২৪-২৩ সালে ওই মাসে যথাক্রমে ২৬১ ও ৪৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির ওঠানামার ওপর নির্ভর করে গরমের তারতম্য।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল করিম স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্ভাবাসে বলা হয়, জুলাই মাসে সারা দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চট্টগ্রামে কিছুটা কম হতে পারে। ১১ জুন সারা দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বিস্তার লাভ করে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, জুন মাসে রংপুর বিভাগে স্বাভাবিক; ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি বৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামসহ অন্য বিভাগগুলোয় স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এ মাসে দেশের সর্বোচ্চ ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে দশমিক ৯ ডিগ্রি থেকে দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
এবার তুলনামূলকভাবে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বৃষ্টির পরিমাণ কম বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন। গত বছর চট্টগ্রামে মোট ২ হাজার ৯২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৫২৪ মিলিমিটার, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এক দশক আগে ২০১৬ সালে বৃষ্টি হয় ২ হাজার ২৭৪ মিলিমিটার।
তবে জুলাই মাসে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৬২০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ওই মাসে চট্টগ্রামে সাধারণত গড়ে বৃষ্টিপাত হয় ৬৯৪ মিলিমিটার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিলেটে ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি জুলাই মাসে সিলেট বিভাগে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হবে। চট্টগ্রামও কম যাবে না। এখানে মাসটির ২১ থেকে ২৬ দিন বৃষ্টি মাথায় চলতে হবে লোকজনকে। চলতি মাসে কমপক্ষে দুটি লঘুচাপের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি লঘুচাপ থেকে মৌসুমী নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়।
বর্তমানে মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগে টানা দুদিন ধরে বৃষ্টি অব্যাহত। চট্টগ্রামে আজ সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানালেন, মৌসুমী নিম্নচাপের কারণে আরও তিন-চার দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে সতর্কবার্তা রয়েছে।
এদিকে, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাসরত বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরও বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে।





