গবেষণা
হাম আক্রান্ত ৭৮ শতাংশের দেখা দেয় নিউমোনিয়া

ছবি: আগামীর সময়
টিকা নেওয়ার বয়সের আগেই ৪৬ শতাংশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ৮৫ ভাগ অর্থাৎ ১৬৭ জন শিশু টিকা নেয়নি। হাম আক্রান্ত ৭৮ শতাংশ শিশুর প্রাণঘাতি নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে। হাম আক্রান্ত ১৯৬ শিশুর ওপর এক জরিপ গবেষণা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সম্মেলন কক্ষে এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মিজলস আউটব্রেক ২০২৬–সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
গুরুতর অসুস্থতা ও জটিলতার ক্ষেত্রে অপুষ্টিকে আক্রান্ত হওয়ার বড় কারণ হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, হাম আক্রান্তদের জন্য চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালকে বিশেষায়িত আইসোলেশন হাসপাতাল করা হবে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখা এবং নগরীর ডিজিটাল ডিসপ্লেতে হাম প্রতিরোধ ও টিকাদান নিয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচারের কথা জানান মেয়র।
গবেষণায় নেতৃত্ব দেন চমেক শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার। চমেক মেডিসিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এম এ হাসান এ গবেষণার উপদেষ্টা ছিলেন।
গবেষণা সহযোগী হিসেবে ছিলেন, ডা. সেলিনা হক, ডা. আয়েশা বেগম, ডা. মোহাম্মদ জাবেদ বিন আমিন চৌধুরী, ডা. সায়েদা হুমায়দা হাসান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ডা. আসমা ফেরদৌসী ও ডা. সানজানা ইসলাম, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ এবং কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা. এম এস জামান।
গবেষণায় অংশ নেওয়া আক্রান্ত শিশুদের বয়স ছিল ২ মাস থেকে ১১ বছর। তাদের মধ্যে ২৩ জনের বয়স ৬ মাসের কম এবং ৪৬ জনের বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে। এতে চমেক হাসপাতালের ৯৭ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৪৫ জন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৪ জন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০ জন আক্রান্ত শিশুর নমুনা নিয়ে গবেষণাটি করা হয়।
গবেষণায় বলা হয় ১৬ শতাংশ শিশু হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩২ শতাংশ ভিটামিন এ ক্যাপসুল পেয়েছে। এটা বড় ধরণের ঘাটতি। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগের প্রাণঘাতী নিউমোনিয়া দেখা গেছে। এ ছাড়া অনেকের ডায়রিয়া, হার্ট ফেলইউর,শক ও এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা দেখা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের ৮৬ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
চমেক হাসপাতালে বর্তমানে ১৯৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে বলে বক্তব্যে জানান চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. তসলিম উদ্দিন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকি মাসুদ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জসিম উদ্দীন ও চমেক শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসা মিয়া।




