ঢাকের বাদ্য আর অশ্রুতে বিদায়

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে দেবী দুর্গার বিসর্জন
পশ্চিমাকাশে হেলে পড়েছে সূর্য। গোধূলির নরম আলোয় দেবীর মুখ হয়ে উঠেছে আরও মায়াময়। চারদিকে ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খধ্বনি। সাগরের জলে যখন শেষ প্রতিমাটি নিরঞ্জন দেওয়া হলো, দিনের আলো তখন প্রায় নিভে এসেছে। পুণ্যার্থীদের চোখে জল, মনে বিদায়ের বিষাদ।
অশ্রুসিক্ত বিদায়ের এই আবহের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে শেষ হয়েছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
আজ বুধবার বিজয়া দশমীতে হাজারো পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে গেছেন দেবী দুর্গা।
এর আগে সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা, পুষ্পাঞ্জলি ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এরপর দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি শুরু করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে নগরের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতে আসতে শুরু করেন তারা। সেখানে মন্ত্রোচ্চারণ ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে সাগরের জলে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
পতেঙ্গা সৈকতে প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেলেন, ‘চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবেই সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের নগরী। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে।’
পতেঙ্গা সৈকতে বিসর্জন দেখতে আসা পুণ্যার্থী সৌরভ দে বলেন, ‘পাঁচ দিনের আনন্দ শেষে দেবীকে বিদায় জানানোর মুহূর্তটি কষ্টের। তবে মনে এই প্রত্যাশা থাকে, আগামী বছর শরতে মা আবার ফিরে আসবেন।’
বিসর্জন ঘিরে সৈকত ও মণ্ডপ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এবার চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় ২ হাজার ২৭৪টি এবং মহানগরে ২৯৪টি মণ্ডপ ছিল।



