চট্টগ্রাম
হাসপাতালে ভর্তির ১-৩ দিনের মধ্যে হামে মৃত্যু

চট্টগ্রামে হাম উপসর্গে অর্ধেকের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে আসার এক থেকে তিন দিনের মাথায়। দেরিতে হাসপাতালে আসা এবং সময়মতো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না পাওয়াসহ নানা কারণে শিশুমৃত্যু ঠেকানো যায়নি। এ ছাড়া হাম উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ২৫ ভাগ কক্সবাজার থেকে এসেছে। ৬৫ ভাগ রোগী চট্টগ্রামের।
চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা ৭৭১ জন হাম উপসর্গের রোগীর তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। ২১ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য এবং হাম ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্য চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।
রোগীর বয়স, হাসপাতালে অবস্থানের সময়, মৃত্যু এবং এলাকার নামসহ তালিকা রয়েছে।
চমেক হাসপাতালের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চিকিৎসাধীন ৭৭১ রোগীর মধ্যে ২১ জন শিশু মারা যায়। তাদের মধ্যে ২০ জনের বয়স ২ থেকে ১১ মাস। একজনের বয়স দেড় বছর। হাম উপসর্গ নিয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার পর ছয়জনই ভর্তির দিনেই মারা গেছে। চারজন মারা গেছে দ্বিতীয় দিনে। তিন থেকে চারদিন চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেছে ছয় শিশু। বাকিরা এক থেকে তিন সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
মূলত এই বয়সী শিশুরাই বেশি ভুগছে হাম উপসর্গে। দেশে টিকার ঘাটতি থাকায় তারা হামের টিকাও পায়নি। এ জন্য এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তবে হাসপাতালে এখন হাম উপসর্গে মৃত্যুর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। হামের বদলে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু দেখানো হচ্ছে। হামের সঙ্গে কিংবা হামের পর বেশিরভাগ রোগী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তাসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, উপসর্গ ছাড়া এখন পর্যন্ত তিনজন রোগী নিশ্চিত হাম নিয়ে মারা গেছে। উপসর্গে মৃত্যুর হিসাবটা এই মুহূর্তে নেই। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী হাম বা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।
চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের কনসালট্যান্ট ডা. ধীমান চৌধুরী জানান, হাসপাতালে মূলত জটিল হয়ে যাওয়ার পর আসে। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে সুস্থ হতে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। তবে যাদের জটিলতা বাড়ে তাদের তিন সপ্তাহ থেকে এক মাস প্রয়োজন হয়। আর আইসিইউতে সবসময় মুমূর্ষু রোগীদের দেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, বাসা-বাড়িতে নানা চিকিৎসা ও অপচিকিৎসার পর সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আসে অনেক রোগী। এ কারণে জটিলতা বেড়ে যায়। যার জন্য চিকিৎসা শুরু করতে করতে বা করার আগেই এক থেকে তিন দিনের মাথায় অনেকে মারা যায়। আবার চমেক হাসপাতালে হামের জন্য বরাদ্দ ১৫ আইসিইউ শয্যাও সবসময় খালি থাকে না। ফলে সঙ্গে সঙ্গে আইসিইউতে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এটাও মৃত্যুর একটা কারণ। আইসিইউর জন্য এক থেকে দুদিন অপেক্ষার প্রয়োজন হয়।




