গাড়িতে বসেই মেয়ের গোল দেখলেন ঋতুপর্ণার মা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন কয়েক বছর ধরে। ডাক্তার, নিয়মিত পরীক্ষা, ওষুধ, থেরাপি এসবের মধ্য দিয়ে কঠিন সময় পার করছেন তিনি। তারপরও বসুবতী চাকমার মনে আনন্দের সীমা নেই। সেই আনন্দের একমাত্র উপলক্ষ নাড়িছেঁড়া ধন ঋতুপর্ণা চাকমা। বুধবার ভারতের গোয়ায় সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ঋতুরা। মধুর এক আনন্দে আত্মহারা বসুবতী।
সেমিতে নেপালের বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয়ের মূল কারিগর ঋতু। মেয়ের খেলার খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করেন মা বসুবতী। কিন্তু কাল ছিল তার ডাক্তার দেখানোর দিন। ক্যানসার আক্রান্ত বসুবতী রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামে আসছিলেন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার দেখিয়ে বিকেলে ফেরার সময় মেয়ের খেলা শুরু হয়ে যায়। কী আর করা।
গাড়িতে বসে মোবাইলে খেলা দেখার বর্ণনা দিলেন বসুবতী, ‘বড় মেয়ের মোবাইল ফোনে খেলা দেখতে দেখতে বাড়ি ফিরছিলাম। যখন মেয়েরা পিছিয়ে পড়ে তখন মন খারাপ হয়। তবে বিশ্বাস ছিল মেয়ের প্রতি। মেয়ে যখন গোল করল তখন কী যে আনন্দ হয়েছে। আপনাদের আনন্দ হয়নি?’
সেমির আগে দলের ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের মা মারা যাওয়ায় পুরো দল ছিল শোকাচ্ছন্ন। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে জয় তুলে নেওয়ায় প্রতীজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন ঋতুরা। মাতৃশক্তিতে বলীয়ান দলটি জয় উৎসর্গ করেছে শিউলির প্রয়াত মা বাসনা আজিমকে।
ঋতুর মা বসুবতীও কয়েকবছর ধরে বুকের ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। অপারেশন হয়েছে। এখন নিয়মিত ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে তিনি। তারপরও মেয়ের খেলা থেকে চোখ ফেরাতে চান না। চার মেয়ের মধ্যে ঋতু সবার ছোট। ঋতুর বাবা নেই। একমাত্র ভাইও মারা গেছে। কাউখালী উপজেলার মগাছড়িতে তাদের গ্রামের বাড়ি।
কাল ঋতুর বড় বোন পুতুল ও তার বরের সঙ্গে চট্টগ্রামে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন বসুবতী। মোবাইলে খেলা দেখতে দেখতে বাড়ি ফেরার সময় একপর্যায়ে খুব চিন্তার মধ্যে পড়ে যান তিনি। বসুবতী জানান, ‘বার বার নেপাল আক্রমণ করছিল। চিন্তা হচ্ছিল। শেষ মুহুর্তে যখন জয়সূচক গোলটি হয় তখন খুব খুশি হয়েছি। রাতে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। মেয়ে আমার খোঁজ খবর নিয়েছে। আমিও সে কি খেয়েছে, কি করছে এসব নিয়ে কথা বলেছি।’
আগামী শনিবার একই মাঠে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে নামবে ঋতুপর্ণরা। হ্যাটট্রিক সাফ শিরোপার সামনে দাঁড়িয়ে এখন বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বসুবতী। ‘সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে ফাইনালেও জিতবে। মেয়েদের জন্য আমি প্রার্থনা করছি। আপনারাও প্রার্থনা করেন, যাতে মেয়েরা কাপ নিয়ে দেশে ফিরতে পারে।’




