চট্টগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ২, বিক্ষোভে ব্যাহত রেল চলাচল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের বিওসি মোড় কাটগড়-আলমগীর সড়ক ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর ওই ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে আড়াই ঘণ্টা ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন।
নিহত দুজন হলেন সাতকানিয়ার মাইঙ্গ্যাপাড়া গ্রামের আবু তাহের (৪৬) ও উত্তর ধর্মপুর মুহুরীপাড়ার আবদুল শুক্কুর (৪৪)। এর মধ্যে আবদুল শুক্কুর অটোরিকশাচালক।
স্থানীয়রা জানান, নিহত আবু তাহের সৌদিপ্রবাসী ছিলেন। তিন দিন আগে তিনি দেশে আসেন এবং আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে তার আবার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
গতকাল দুপুরে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি কাটগড়-আলমগীর সড়ক ক্রসিং অতিক্রম করার সময় একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে যায় এবং চালক ও যাত্রী ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। ঘটনাস্থলেই আবু তাহের নিহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় চালক আবদুল শুক্কুরকে উদ্ধার করে প্রথমে দোহাজারী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই। ট্রেন চালকদের হর্ন বাজানোর অনুরোধ করা হলেও তারা তা শোনেন না। এর আগেও এখানে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার পর বেলা দুইটার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে দেন স্থানীয় লোকজন। তারা রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ তৈরি করেন এবং গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গেটম্যান নিয়োগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা ট্রেন আটকে থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক যাত্রীকে ট্রেন থেকে নেমে সড়কপথে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। বিকাল সাড়ে চারটার পর প্রবাল এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আবদুল আলিম বলেছেন, ‘ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। ক্রসিংয়ে গেটম্যানের দাবিতে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করেছিলেন। পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা রেললাইন থেকে সরে যান এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।’



