ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় আট বছরের শিশু সোহাগকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নিষ্কৃতি হাগিদক।
আগামীর সময়কে এসব তথ্য জানিয়েছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ ওমর ফুয়াদ।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির নাম ইমন হোসেন (৩৮)। তার বাড়ি ভোলা জেলায়। তিনি রিকশাচালক। ইমন পতেঙ্গা থানার পূর্ব আহম্মদ পাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
আদালতের নথি ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পতেঙ্গায় ইমনের প্রতিবেশী ছিল শিশু সোহাগের পরিবার। সোহাগের বাবাও রিকশাচালক। এ ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের ৮ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে। রিকশা চালিয়ে বাসায় ফেরার পথে শিশু সোহাগকে খেলতে দেখেন ইমন। তাকে বরই খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে পতেঙ্গার চেয়ারম্যান গলিতে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু সোহাগ তাকে প্রতিরোধ করে এবং মাকে ঘটনা জানানোর ভয় দেখায়।
অপকর্ম জানাজানি হওয়ার ভয়ে ইমন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঘরে পড়ে থাকা একটি ভাঙা ইট দিয়ে সোহাগের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। সোহাগ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে থাকলে ইমন তার মাথায় ও কপালে উপর্যুপরি আরও কয়েকবার আঘাত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ইমন সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ওইদিন বিকালে পরিত্যক্ত ঘরটি থেকে সোহাগের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা ফারুক হোসেন ভূঁইয়া পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওইদিনই ইমনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পাঁচমাসের মাথায় ৮ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা পতেঙ্গা থানার এসআই জাকির হোসেন আদালতে ইমনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগ গঠনের পর ১২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দিয়েছেন।
বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ জানালেন, রায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচার চলাকালীন সময়ে আসামি ইমন জামিন নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। রায় ঘোষণার সময়ে আদালতে হাজির না থাকায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারক।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেছেন, এমন জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো সাজা দেওয়া হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে।




