চট্টগ্রামে কানাডীয় জ্বালানি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব মেয়র শাহাদাতের

কানাডার জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী ক্লদ গুয়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
বাংলাদেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও শিল্পায়নের গতি ধরে রাখতে চট্টগ্রামে একটি কানাডীয় বিশেষায়িত শক্তি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে বন্দরনগরীকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে কানাডার সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কানাডার লাসাল-এমার্ড-ভার্দ্যাঁ আসনের সংসদ সদস্য ও দেশটির জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রীর সংসদীয় সচিব ক্লদ গুয়ের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মেয়র এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা টেকসই জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নানা দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। চট্টগ্রামে একটি আধুনিক ও বৃহৎ তেল শোধনাগার (রিফাইনারি) স্থাপন এবং কানাডা থেকে দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সম্ভাব্যতার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সরাসরি জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। শিল্পকারখানা সচল রাখা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ জরুরি। এই উদ্যোগ কেবল চট্টগ্রামের উন্নয়ন নয়, বরং গোটা বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার একটি দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি তৈরি করতে পারে।’
প্রধান সমুদ্রবন্দর ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামকেই এই জ্বালানি অঞ্চলের সবচেয়ে উপযোগী স্থান হিসেবে তুলে ধরেন মেয়র। আলোচনায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তেল শোধনাগারের পাশাপাশি জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ অবকাঠামো, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প এবং আধুনিক প্রকৌশল সেবা যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। এর ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটবে।
উদ্যোগটি বর্তমানে প্রাথমিক ধারণার পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী ধাপে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়ে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করা যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।





