বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে অগ্রাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ওয়াশিংটন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
এ অঞ্চলে বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই করায় শুল্ক সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্যের গুণগত মান বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল বুধবার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেছেন তিনি।
সভায় দুদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার এ ইতিবাচক বার্তা দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে প্রচলিত খাতের বাইরে বিস্তৃত করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র ও মডুলার পারমাণবিক চুল্লির মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় ধরনের সম্ভাবনা দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন কৃষিপণ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং অ্যাভিয়েশন খাতেও আমেরিকান বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বন্দর ব্যবস্থাপনা সহজ হলে বাণিজ্যে নতুন গতি
বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে কিছু নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি উল্লেখ করেন, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং চট্টগ্রাম বন্দরে খাদ্যপণ্যের অপ্রয়োজনীয় তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার মতো অশুল্ক বাধাগুলো পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হলে পণ্য খালাস অনেক দ্রুত হবে। এর ফলে পণ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে মার্কিন বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।




