৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের টার্গেট, প্রস্তুত চসিক

ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম নগরীতে ছয় ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগকে সময় বেঁধে দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত বছরের মতো এবারও ১০ হাজার টন বর্জ্য অপাসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন হবে। সকাল ৮টা থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ পুরোদমে শুরুর জন্য কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলমগীর জানালেন, এবার চট্টগ্রাম নগরী ও জেলা মিলিয়ে সোয়া ৭ লাখের মতো পশু কোরবানির সম্ভাবনা তারা দেখছেন। এর মধ্যে গরু-মহিষ সোয়া ৫ লাখের মতো। ছাগল-ভেড়া মিলিয়ে আরও ২ লাখ কোরবানি হতে পারে। তবে কী পরিমাণ পশু কোরবানি হয়েছে সেটা ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ পর তারা প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন।
বৃষ্টির কারণে পশু কোরবানি কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা। তিনি বললেন, ‘বৃষ্টি না হলে গতবছরের মতোই কোরবানি হবে। বৃষ্টি হলে হয়তো কিছুটা কমবে। আমরা কম-বেশি ১০ হাজার বর্জ্য অপসারণের টার্গেট নিয়েই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।’
৩৭৯টি গাড়ি নিয়ে চসিকের নিজস্ব ৩২০০ শ্রমিক বর্জ্য অপসারণের কাজ করবেন। আর তাদের সঙ্গে থাকবেন চসিকের বিভিন্ন বিভাগের আরও শতাধিক কর্মী।
গাড়ির মধ্যে আছে- ডাম্প ট্রাক, কম্পেক্টর, পে লোডার কাজ করবে। কোনো কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিমও প্রস্তুত থাকবে।
বর্জ্য অপসারণের জন্য নগরীর ৪১ ওয়ার্ডকে উত্তর ও দক্ষিণ-এ দুটি জোনে ভাগ করা হয়েছে বলে জানালেন পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব। তার ভাষ্য, ‘সকাল ৮টা থেকে পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে কোরবানির বর্জ্য ও পুরনো খড়কুটোসহ বিভিন্ন আবর্জনা সংগ্রহ শুরু হবে। সেগুলো মূল সড়কে নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখা হবে। সকাল ৯টা থেকে ট্রাকে করে বর্জ্য আবর্জনাগারে নিয়ে যাবার কাজ শুরু হবে।’
নগরীর উত্তর-দক্ষিণের ২২টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ফেলা হবে আরেফিন নগরের আবর্জনাগারে। পতেঙ্গা-বন্দর এলাকার বাকি ১৯টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ফেলা হবে হালিশহরে আবর্জনাগারে। পাশাপাশি পানি ও ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে শহরকে পরিচ্ছন্ন করা হবে। বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য দামপাড়া অফিসে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
এছাড়া দুটি হটলাইন নম্বর ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের অভিযোগ বা পরামর্শ জানাতে পারবেন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে।
চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ জানালেন, গত মঙ্গলবার পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের ৬ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে কোনো গাফেলতি সহ্য হবে না বলে মেয়র কঠোর হুঁশিয়ার করেছেন। দুপুর ২টায় মেয়র নিজে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে যাবেন।
প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করে চসিকের সরবরাহ করা ব্যাগে বর্জ্য জমা নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যাওয়ার জন্য কোরবানিদাতাদের অনুরোধ করেছেন মেয়র।






