সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে : সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী

চট্টগ্রাম আদালতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান— আগামীর সময়
সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি কতটুকু যৌক্তিক, সেটা আইনসঙ্গতভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানালেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তবে কেউ অন্যায়ের শিকার হোক সেটাও সরকার চায় না বলে মন্ত্রী জানালেন।
আজ রবিবার সকালে চট্টগ্রাম আদালতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এভাবেই পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরলেন। এর আগে তিনি জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
পদত্যাগী সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও তাকে গ্রেপ্তারের জন্য এনসিপির দাবির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বললেন, ‘দাবি তারা করতেই পারেন। নিশ্চয়ই পারেন। কিন্তু আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সেটা আইনসঙ্গতভাবে দেখব। তাদের দাবি আইনসঙ্গতভাবে কতটুকু যৌক্তিক, কতটুকু ঠিক আছে, আইনসঙ্গতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটা আমরা দেখব।’
‘আমাদের সরকার সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। এতটুকু ভরসা সরকার প্রধান এবং আমাদের ওপর আপনাদের রাখতে হবে। আমরা একদিকে যেমন জনদাবিকে গুরুত্ব দেব, একইসঙ্গে আমরা কেউ কোনো অন্যায়ের শিকার হোক, সেটাও আমরা চাই না। সুতরাং বিষয়টা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
রাষ্ট্রপতির বিদেশ যেতে কোনো বাধা আছে কী না, এমন প্রশ্নে তিনি জানালেন, এটা হোম মিনিস্টার জানবেন। এগুলো কনফিডেনশিয়াল বিষয়। পাবলিকলি এভাবে আমরা বলতে পারব না। কার নিষেধাজ্ঞা আছে, কার নিষেধাজ্ঞা নেই সেটা আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় রেখে যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।
জুলাই আন্দোলনের মামলার বিষয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘মামলাগুলো আমরা ফার্স্ট ট্র্যাকে নেওয়ার চেষ্টা করছি। অচিরেই আইসিসির পক্ষ থেকে ফার্স্ট ট্র্যাকে যাবে। মামলাগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করেছি। ইতোমধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা সংশোধন করে আইন পাশ করা হয়েছে। মিথ্যা মামলার যে অভিযোগ সেটা কমানোর জন্য করা হয়েছে।’
‘আপনারা (সাংবাদিক) বরং খবর নেন যে এই সরকারের আমলে পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মামলা করেছে কী-না। এক্সট্রা জুডিশিয়াল কোনো কিলিং হয়েছে কী-না। গুম হচ্ছে কী-না। যদি তথ্য পান অবশ্যই আমাদের জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।’
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের একটি সাময়িকীকে উদ্ধৃত করে গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ‘ডকুমেন্টেড’ উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানালেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদও দিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম।





