বাঁশখালীর বন্ধ স্লুইসগেট খুলে দেওয়ার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা স্লুইসগেটগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
আজ সোমবার নগরের টাইগারপাস সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, মাছ চাষের নামে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত অনেক স্লুইসগেট স্থানীয়ভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বাঁশখালীসহ যেসব এলাকায় স্লুইস গেট বন্ধ সেগুলো চালু করতে আমরা এরই মধ্যে কাজ করছি।’
বাঁশখালীর সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম তার সঙ্গে দেখা করে তিন-চারটি নির্দিষ্ট স্লুইসগেট বন্ধ থাকার বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সেগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, ‘বাঁশখালী ও সাতকানিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ বিভিন্ন নদীর ধারণক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে কমে গেছে। যা এবারের বন্যার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।’
তিনি বলেছেন, ‘প্রতি ২৫-৩০ বছর পরপর নদীতে পলি জমে প্রবাহ কমে যায় এবং তীর ভাঙনও বেড়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ শুরু হয়েছে। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন হলে এসব নদীও ধীরে ধীরে নাব্য ফিরে পাবে।’
জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানালেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, ‘প্রকল্পটি শেষ হলে তা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তরপরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনকে নিজস্ব জনবল প্রস্তুত রাখতে মেয়রকে অনুরোধ জানিয়েছি। সেনাবাহিনী ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কারিগরি জনবলের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’
হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এর মধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রকল্প হস্তান্তরের পর যেন তা মাঝপথে থমকে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী ঢাকার ডিএনডি খাল প্রকল্পের উদাহরণ টানেন। তিনি বললেন, ‘প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প ২০২৩ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই চট্টগ্রামের প্রকল্পে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে চাই।’
চট্টগ্রামের খাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘খালের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার চিত্র তিনি নিজে দেখেছেন। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত না করে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগে এ ধরনের দখল সরানো কঠিন।’
ঢাকার একটি খালের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি প্রকল্পেও দখলদারদের কারণে কাজ থমকে গিয়েছিল, পরে স্থানীয়ভাবে সচেতনতা তৈরি করে ধাপে ধাপে দখল সরিয়ে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হয়।’ চট্টগ্রামেও একই কৌশল অনুসরণের পরামর্শ দেন তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিপাত হলেও নগরের সার্বিক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা চলমান প্রকল্পের কাজের ফল বলে মনে করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, সকাল থেকে মেয়রসহ যেসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন, সেখানে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা তারা পাননি, তবে নগর বড় হওয়ায় দু-একটি এলাকায় সমস্যা থাকতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি।




