চট্টগ্রামে এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে দলাদলি

সংগৃহীত ছবি
‘উনারা যদি এতটুকু বুদ্ধি, এতটুকু পরিশ্রম, এতটুকু প্ল্যান এবং এতটা ডেডিকেশন দিয়ে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে রাজনীতি করতেন, সম্ভবত এতদিনে অনেক বড় নেতা হতে পারতেন। আজ গ্রুপিংয়ের জন্য পুরো পার্টির ইমেজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন ফেসবুকে এ পোস্ট দিয়েছিলেন গত শুক্রবার রাতে।
এখানেই শেষ নয়। এর আবার অন্য পটভূমি রয়েছে। সেটি হলো, আবাসিক হোটেলের বারে পদপ্রত্যাশী নারীকর্মীর সঙ্গে এক নেতার সাংগঠনিক বৈঠক ও অস্বস্তিকর প্রস্তাবের অভিযোগ। এরকম অবস্থায় চট্টগ্রামে দলের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনার মুখে নেতারা।
এর মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা ১৬ মাস বয়সী দলটির ভেতরের গ্রুপিং চলে এলো সামনে।
শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপি নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে এক তরুণী অভিযোগ করেন। পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া তাকে গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় নগরীর জিইসি মোড়ে চার তারকা পেনিনসুলা হোটেলের রুফ টপের বারে সুজার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সুজা ‘মদ্যপ অবস্থায়’ তাকে অস্বস্তিকর প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
এই অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর উল্লেখ করে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিবৃতি দেয় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপি। ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
এরপর রাতে নগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন ফেসবুকে বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন। এতে সংবাদ সম্মেলনে আসা তরুণীসহ তিনজনকে ‘৩ নর্তকী’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।
এ অবস্থায় গতকাল শনিবার বিকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলের সদস্য মোহাম্মদ উসামা চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব ও সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলেন।
এ ছাড়া আরিফ মঈনুদ্দিন অভিযোগকারীকে ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত হীন ভাষায় আক্রমণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। শোকজ নোটিস দুটি আবার এনসিপির কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজেও প্রচার করা হয়েছে।
শোকজ নোটিস পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করলেন আরিফ মঈনুদ্দিন। তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘সাংগঠনিক বিষয়ে কেন্দ্র যেকোনো সময় ব্যাখ্যা চাওয়ার গঠনতান্ত্রিক অধিকার রাখে। আমি সাংগঠনিক নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অবশ্যই শোকজের জবাব সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় দেব।’
দলের ভেতরে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। সাদিয়া আফরিন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব। দলটির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠকও তিনি।
আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে জানালেন নগর এনসিপির দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয়, ‘প্রথমে বলল সুজা ভাই ৩০ হাজার টাকা খরচ করে কমিটি এনেছেন। এটা যখন প্রতিষ্ঠা করতে পারল না, তারপর মেয়েঘটিত বিষয় সামনে নিয়ে আসা হলো। নাহিদ ভাই, হাসনাত ভাই ও মনিরা শারমিন আপা বিষয়টা তদন্ত করছেন। কিন্তু এর মধ্যেও তারা থেমে নেই।’
‘আমরা এনসিপি করি। অথচ অবস্থা এমন হয়েছে যে, আমাদের মতো করে রাজনীতি করতে পারছি না। আমরা বিএনপি-আওয়ামী লীগ কাউকে পছন্দ করি না। অথচ আমাদের রাজনীতিটা হয়ে যাচ্ছে তাদের স্টাইলে। একপক্ষ আরেকপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য নোংরামি শুরু করে দিয়েছে। যারা নিজেদের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দেন অথচ পেছনে ১০-১৫টা ছেলেও নেই। তারাই দলের ভেতরে এসব নোংরামির সঙ্গে যুক্ত’— বলেন রিদুয়ান হৃদয়।




