‘ছবি ও রঙে খবরের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে আগামীর সময়ে’

ছবি: আগামীর সময়
আগামীর সময় অফিস ঘুরে গেলেন চট্টগ্রামের তরুণ সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা সাঈদ আল নোমান তূর্য। আলাপে বললেন পত্রিকাকে নিয়ে একরাশ প্রত্যাশার কথা। ব্যক্তির সমালোচনা নয়, কাজের সমালোচনা তুলে ধরে সমাজের দর্পণ হিসেবে আগামীর সময়কে গড়ে তোলার কথাও বললেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর এসএস খালেদ রোডে কর্ণফুলী টাওয়ারের পঞ্চম তলায় আগামীর সময় অফিসে আসেন সাঈদ আলম নোমান তূর্য। তিনি চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর-খুলশী) আসনের সংসদ সদস্য। প্রয়াত রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমানের সন্তান তূর্য জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি। বাবার আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন অক্সফোর্ডে পড়ালেখা করা এই তরুণ।
আগামীর সময়ের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল বাহার তূর্যকে অফিসে স্বাগত জানান। কম্পিউটার স্ক্রিনে পত্রিকাটির অনলাইন ভার্সন দেখলেন। এরপর ছাপা পত্রিকা হাতে নিয়ে নানা প্রসঙ্গ বিশ্লেষণ করলেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। ঝরঝরে ছাপা, পত্রিকার গেটআপ-মেকআপের প্রশংসা করলেন। প্রত্যাশা, আরও ভালো করতে হবে। পত্রিকা, অনলাইন দেখেই প্রশংসাসূচক বাক্য ছুড়ে দিয়ে বললেন, ‘বাহ, বেশ পরিচ্ছন্ন। জায়গা ছেড়ে দিয়ে নিউজ পরিবেশন করা হয়েছে। কালারের ক্ষেত্রেও সংবেদনশীল। সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।’
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ভিনদেশের পত্রিকাগুলোকে অনুসরণ করে তাদের চেয়ে অগ্রসর চিন্তাকে পত্রিকায় স্থান দেওয়া যায় কি না, এ বিষয়েও গবেষণা করতে বললেন।
পত্রিকার পাতায় নিজের সমালোচনা, কীভাবে নেবেন জানতে চাইলেন রফিকুল বাহার। তূর্য বললেন, ‘ব্যক্তির সমালোচনা নয়, কাজের সমালোচনা করবেন। ব্যক্তির সমালোচনায় সৌন্দর্য নষ্ট হয়। আমরা যেহেতু জনপরিসরে কাজ করি, সমালোচনা আমাদের নিতেই হবে। সমালোচনার প্রতিক্রিয়া এটা সাধারণত দুই ধরনের হয়। কেউ মনে করে সমালোচনা মানেই নিচে নামানো। আর কারও কাছে সমালোচনা মানে ব্যক্তির প্রচারণা। কে কী উদ্দেশ্যে লিখছে, এটা ডিসাইড করার ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু সেটা হিতে কিংবা অহিতে হিত হয়ে যেতে পারে।’
দেশে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটা জাগরণ দরকার বলে মত দেন সাঈদ আল নোমান তূর্য। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে জোরালো ভূমিকা রাখার তাগিদ দিলেন তিনি, ‘দেশে একটা কালচারাল ও সোশ্যাল রেভলিউশন দরকার। চব্বিশের আগস্টের পর ভেবেছিলাম কিছু বিপ্লবী পরিবর্তন আসবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন এলেও সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আসেনি।’
‘জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে শুধু গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্র থাকতে হবে। কিন্তু বেশি থাকতে হবে সাংস্কৃতিক এবং মানবিক মূল্যবোধগুলোর উৎকর্ষ। উচ্চমার্গের একটা গণমাধ্যম এক্ষেত্রে শক্তিশালী রোল প্লে করতে পারে।’
আগামীর সময়কে সেই জায়গায় দেখতে চান উল্লেখ করে তূর্য বললেন, ‘সমাজের দর্পণ হয়ে দাঁড়াতে হবে। সেই দর্পণে হয়তো আমাকে দেখতে ভালো না-ও লাগতে পারে। কিন্তু দর্পণ ঠিক থাকতে হবে। কারণ এটাই বাস্তবতা। শব্দচয়ন, বাক্যগঠন নিখুঁত হতে হবে। ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য এটা বড় একটা বিষয়। সাহিত্যচর্চা এবং সলিড পড়াশোনা যাদের আছে, তাদের দিয়ে পত্রিকা গড়ে তুলতে হবে।’





