বিশেষ ফ্লাইটে যাত্রীদের সৌদি পৌঁছাচ্ছে সৌদিয়া এয়ারলাইনস

সৌদিয়া এয়ারলাইনস
হুতিদের হামলার পর সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যক্রম বন্ধ। এই অবস্থায় বাংলাদেশে আটকে পড়া যাত্রীদের বিশেষ ব্যবস্থায় সৌদি আরবের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে সৌদিয়া এয়ারলাইনস।
ওমরাহ হজ যাত্রী ও সৌদিপ্রবাসী যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম ও জেদ্দা বিমানবন্দরে বিশেষ ফ্লাইট চালু করেছে। বিশেষ ফ্লাইটে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি কোনো মাশুলও নিচ্ছে না এয়ারলাইনসটি। আর রিয়াদ হয়ে যেসব ট্রানজিট যাত্রী ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকার মতো অন্য গন্তব্যে যেতেন তাদের অন্য এয়ারলাইনসে নিজ তাগিদে টিকিট ইস্যু করে দিচ্ছে।
এমন একসময়ে সৌদিয়া এয়ারলাইনস উদ্যোগটি নিল যখন ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ৬২ যাত্রীবাহী ফ্লাইট বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বাতিল করা হয়েছে। আর এতে উদ্বিগ্ন হয়ে এয়ারপোর্ট, এয়ারলাইনস অফিসে ভিড় করেছেন হাজার হাজার যাত্রী। উৎকণ্ঠায় আছেন ভিসার মেয়াদ শেষের আগে সৌদির কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারবেন কিনা।
এই উদ্যোগের ফলে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের যাত্রীদের ভোগান্তি কমেছে। অন্য এয়ারলাইনসগুলো এই কৌশল নিলে ওমরাহ হজ যাত্রী, প্রবাসী বাংলাদেশি ও নতুন চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের উদ্বিগ্নের অবসান হতো, ভোগান্তি কমত। বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যেতে সবেচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে সৌদি আরবের সরকারী বিমান সংস্থা সৌদিয়া এয়ারলাইনস। ঢাকা থেকে সরাসরি রিয়াদ, জেদ্দা, মদিনা রুটে সপ্তাহে ফ্লাইট চালায় এই এয়ারলাইনস। সপ্তাহে ২৭ ফ্লাইটে তাদের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ১১ হাজার। ঢাকা থেকে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালায় না সৌদিয়া এয়ারলাইনস।
যাত্রী উৎকণ্ঠা কমাতে আটকে পড়া যাত্রীদের বিশেষ ফ্লাইটে দাম্মাম পৌঁছে দিচ্ছে। নিয়মিত শিডিউলের বাইরে বিশেষ ফ্লাইটে যাত্রীদের জেদ্দায় পৌঁছে দিচ্ছে। সৌদিয়া এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (বিজনেস সাপোর্ট) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানালেন, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধের ফলে আটকে পড়া যাত্রীদের সৌদি আরব পৌঁছাতে দুটি বিশেষ ফ্লাইট চালিয়েছি। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বিশেষ ফ্লাইট চলবে। আমাদের নিয়মিত ফ্লাইট এখনো সরাসরি জেদ্দা, মদিনা যাচ্ছে। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে। ততদিন কোন যাত্রী যাতে কষ্ট না পান আমরা সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি।
তিনি জানান, আমাদের প্রচুর ট্রানজিট যাত্রী আছে। তাদের জন্যও নিজের খরচে অন্য স্টার এয়ারলাইনসে টিকিট ইস্যু করে দিচ্ছি। শিডিউল ফ্লাইটে আসন খালি থাকলে সেখানেও যাত্রী যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। বিশেষ ফ্লাইটে যারা যাচ্ছেন তাদের কোনো বাড়তি মাশুল দিতে হচ্ছে না। আমাদের কাছে যাত্রী সন্তুষ্টিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ৬২টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এতে ৯ হাজার ৬৭৪ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের হিসাবে, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইন্ডিগো, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, ফ্লাইদুবাই, সালাম এয়ার ও ইজিপ্ট এয়ারের ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটও এর আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের সব ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করেছে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহ আলম জানালেন, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। অন্য এয়ারলাইনসগুলো এই উদ্যোগ নিলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। বিশেষ করে বাজেট বা কম খরচের এয়ারলাইনসকে এমন উদ্যোগ নিতে মানবকিভাবে এগিয়ে আসতে হবে।



