সাতসকালে কেন তাদের হাসির তুলকালাম

ছবি: আগামীর সময়
তারা হাসছেন। সশব্দ হাসি। অট্টহাসি। হাসির তুলকালাম। পাশ দিয়ে কেউ যাওয়ার সময় এই দৃশ্য দেখে অবাক না হয়ে আনন্দে তিনিও হেসে ওঠেন।
সাতসকালে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সিআরবি, ডিসি হিল, লালদিঘী ও বাটালি হিলে এই দৃশ্য একেবারই সাধারণ। হাসির এই প্রতিযোগিতা প্রায় প্রতিদিন চলে।
এ হাসির আয়োজন কোনো কৌতুকের আসর নয়, নাটক সিনেমার অভিনয়ও নয়। বিভিন্ন গ্রুপের সকালের ব্যতিক্রমী স্বাস্থ্যচর্চা।
প্রতিদিন সকাল ৬টা বাজতেই জড়ো হন ডাক্তার, শিক্ষক, ব্যাংকার, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ। যেখানে ২৩ বছরের টগবগে যুবকও থাকে। বাদ যান না ৮০ বছরের প্রবীণও। সবাই শরীর ও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চান।
তারা প্রতিদিন সকালে এভাবে কেন হাসেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ’ইয়োগা প্রভাতি’ সদস্য রবিন সাহা জানালেন, ‘জীবন-জীবিকার তাগিদে নানা রকম উদ্বেগ ও মানসিক চাপে থাকি। হাসি হলো একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ওষুধ, যা মনকে প্রফুল্ল রাখে। সারাদিনের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।’
সিআরবি বলেন কিংবা লালদিঘী সবটায় সবুজে ঘেরা। সুন্দর নির্মল এই প্রাকৃতিক পরিবেশে তাই ছুটে আসেন হাজারো মানুষ।
এদেরই একজন ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ রঞ্জন রক্ষিত। আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ‘যোগবলে রোগ-আরোগ্য’-একটি বই উপহার পাওয়ার পর থেকেই বদলে যায় তাঁর জীবন। পাঁচ দশক ধরে প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রঞ্জন বললেন, ‘এই বয়সেও আমার কোনো ডায়াবেটিস বা হার্টের জটিলতা নেই। অনেকে সময়ের অজুহাতে হাঁটেন না, কিন্তু সুস্থ থাকতে এর কোনো বিকল্প নেই।’
তার সঙ্গে গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত হাঁটছেন নির্মল ধর। তিনি জানালেন, ‘যেদিন হাঁটতে আসি না, সেদিন মনে হয় জীবন থেকে কী যেন হারিয়ে ফেলেছি।’
ভোরের এই স্বাস্থ্যরক্ষার কেন্দ্রে গড়ে উঠেছে ‘শতায়ু অঙ্গন’-এর মতো সংগঠনও। সংগঠনের সভাপতি ৬৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ রুস্তম আলী জানালেন, ‘প্রতিদিন আমাদের গ্রুপে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ এখানে একত্রিত হয়ে নানান কসরতে শরীরচর্চা করেন। ২৯ বছর ধরে হাঁটা-হাসা-ব্যায়াম আমার এই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’
৫ বছর ধরে নিয়মিত হেঁটে শরীরের পুরোনো ব্যথা দূর করেছেন আশরাফ উদ্দিন। চাকরিজীবন শেষে ঘরে বসে না থেকে শরীর ভালো রাখতে হাঁটাহাঁটিকে বেছে নিয়েছেন গোলাম কাদেরও।
প্রাত্যহিক জীবনের শত ব্যস্ততা ও মানসিক চাপ দূর করে শরীর ও মনকে সতেজ রাখতেই ভোরের এই রকম পথচলা। চিকিৎসাবিজ্ঞানেও একই কথা বলা হয়েছে।
ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসক ডা. ইশতিয়াক আজিজ খান জানালেন, উচ্চস্বরে হাসলে মাথা ঘাঁড় মুখের সকল পেশি সক্রিয় হয়ে উঠে। ফুসফুস ও হৃদপিন্ড একইভাবে রক্ত চলাচল বাড়ে। দেহমনকে সতেজ করে।




