ক্যাম্পাসের বড়পর্দা যেন কানসাস স্টেডিয়াম

বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রিয় দলের ম্যাচ উপভোগ করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। আজ সকালে কোর্য়াটার ফাইনালের শেষ ম্যাচ আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের মধ্যেকার খেলাটি চলাকালীন বৃষ্টির দাপট ছিল অনেক— আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বর যেন ছোটখাটো একটি স্টেডিয়াম। বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় কেউ, কারও গায়ে রেইনকোট। একদল কেবল ভিজছে, ছাদখোলা স্টেডিয়াম গ্যালারিতে যেমন করে ভিজে। বেশিরভাগ নিজেদের রাঙিয়েছে আকাশি-সাদা জার্সিতে। কারও হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা। সবার দৃষ্টি বড় পর্দায়। বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচটির অপেক্ষা কেবল।
আজ রবিবার সকাল ৭টায় বাঁশিতে ফুঁ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিভেজা সকালটি মুখর হয়ে ওঠে ছাত্র-ছাত্রীদের উল্লাস, উত্তেজনা আর শোরগোলে। প্রতিটি পাস, প্রতিটি আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন তারা। আবার সুইসদের প্রতি আক্রমণে উদ্বেগ ছড়িয়েছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের। তবে এন্টি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে খেলার নানা মুহুর্ত। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে সুইসদের সমতা ফেরানো গোলটিতে বিপরীত শিবির উল্লসিত ছিল।
ব্রাজিল ইতিমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। এতদিন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দুই শিবিরে বিভক্ত ছিল ক্যাম্পাস। জার্মানি, ফ্রান্সের এতটা সমর্থন নেই। তাই বিদায় নেওয়া জার্মানি ও ব্রাজিল সমর্থকদের বড় একটি পক্ষ এখন আর্জেন্টিনা বিরোধী হিসেবে পরিচিত। বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে এই দুই শিবিরের ঠান্ডা লড়াই এখনো চলছে। তাই দু পক্ষ মিলেই মূলত বড় পর্দার সামনে খেলা দেখতে উপস্থিত হয়। আজও ব্যতিক্রম হয়নি। তাইতো এত উল্লাস, উত্তেজনা আর আনন্দ।
মেসিদের সুযোগ এলেই শত কণ্ঠের চিৎকার-করতালি। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ মাটিতে বসে, আবার কেউ বন্ধুদের কাঁধে হাত রেখে অপেক্ষায় ছিলেন আর্জেন্টিনার গোলের। ম্যাক আলিস্টারের গোলে প্রথম এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে আত্মহারা ছিল সবাই। আবার সমতায় নীরবতা। উত্তান পতনের মধ্য দিয়ে গেছে পুরোটা সময়।
অতিরিক্ত সময়ে দারুণ টেনশনে ছিলেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন, কেউ চোখ বন্ধ করে প্রার্থনায় মগ্ন হন। তখন প্রতিটি মুহূর্ত বাঁচা মরার লড়াই। প্রতিটি আক্রমণ বাড়িয়ে দেয় সমর্থকের হৃদস্পন্দন। শেষদিকে আলভারেজের বিজয়সূচক গোলে আবার উল্লাসে মেতে ওঠেন সবাই, আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন। চারদিকে তখন একটাই ধ্বনি, 'আর্জেন্টিনা... আর্জেন্টিনা...'। আনন্দ দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্টিনেজ। ছোট বড় সবাই মেতেছেন আর্জেন্টিনার জয়োৎসবে।
বিদায়ী শিক্ষার্থী ইখলাস বিন সুলতান জানালেন, ‘এতদিন বিভিন্ন কারণে ক্যাম্পাসে খেলা দেখার সুযোগ হয়নি। বৃষ্টিস্নাত ক্যাম্পাসে কাকভেজা হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ উপভোগ করলাম আজ।’
আর্জেন্টিনার সেমিতে ওঠার খুশিতে নেচে গেয়ে উদ্যাপন করেন শিক্ষার্থীরা। ভেজা পোশাক ও দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি ভুলে শিক্ষার্থীরা পতাকা উড়িয়ে ‘আর্জেন্টিনার আর মেসি মেসি’ স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো ক্যাম্পাস। বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার স্বপ্নও বুনছেন তারা।
মাস্টার্সের শিক্ষার্থী অর্পিতা দাশ বললেন, ‘ক্যাম্পাসে এটাই শেষ বিশ্বকাপ। তাই আর্জেন্টিনার হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি দেখেই যেতে চাই।’





