রংপুর
জানাজার পর জেগে উঠল কর্তৃপক্ষ

ছবি: আগামীর সময়
জনদুর্ভোগের আরেক নাম রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়-সাতমাথা সড়ক। বড় বড় গর্তসহ সড়ক জুড়ে খানাখন্দে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষের ছিল না উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল এই সড়ক সংস্কারের দাবিতে দফায় দফায় আন্দোলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
‘কর্তৃপক্ষ মারা গেছে’ সড়কের ওপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিনব প্রতিবাদ জানিয়ে গত বছর প্রতীকী গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে। শেষ পর্যন্ত জেগে উঠেছে সিটি করপোরেশন।
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আজ রবিবার দুপুরে সড়কটির সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
তাদের আশা, কাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের যানজট ও চলাচলের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, লোকাল গভর্নমেন্ট কভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রকল্পের আওতায় প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের কার্পেটিং, আরসিসি ড্রেন, ফুটপাত, সড়ক বিভাজক, লাইটপোস্ট ও স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৬৭ লাখ ৭২ হাজার ৭৪০ টাকা।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগ জানালেন, নগরের জাহাজ কোম্পানি থেকে সাতমাথা সড়ক দিয়ে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার একাংশের মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করেন।
বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি প্রায় দুই বছর ধরে খানাখন্দে ভরা। এ নিয়ে একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
সিটি করপোরেশনকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে প্রতীকী জানাজার নামাজ পড়ানো হয়। তারপরও নির্বিকার ছিল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন পর হলেও সড়কটির সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংস্কার কাজের উদ্বোধন শেষে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বললেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়কটির উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ভবিষ্যতে এ মডেল অনুসরণ করে নগরীর অন্যান্য সড়কেরও উন্নয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।





