অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
মানসিক চাপে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

পরীক্ষা কেন্দ্র- সংগৃহীত
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার অবশিষ্ট অংশ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন লাখো শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে একই পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার মানসিক চাপের পাশাপাশি কবে পরীক্ষা শেষ হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষা যথাসময়ে শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বৈষম্য ও তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার অবশিষ্ট সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।
গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কয়েকটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে প্রথমে ১৬ জুলাই পর্যন্ত দুই দফায় চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সর্বশেষ গত রাতে 'অনির্দিষ্টকালের জন্য' স্থগিতের ঘোষণা আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বেড়েছে।
চট্টগ্রাম মডেল কলেজের পরীক্ষার্থী সানজিদা আক্তার নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বললেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে শুধু এইচএসসি পরীক্ষার জন্যই দিন-রাত প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন বলা হচ্ছে পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। কবে হবে, সেটাও জানি না। প্রতিদিন একই বিষয় বারবার পড়তে পড়তে মানসিকভাবে খুব চাপ অনুভব করছি।’
বোর্ড পরীক্ষা ঝুলে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিকল্পনায়। বাকলিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান বললেন, ‘এইচএসসি শেষ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন বোর্ড পরীক্ষা কবে শেষ হবে, সেটাই জানি না। ফলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি একসঙ্গে নিতে হবে, যা আমাদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যাবে।’
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানাচ্ছেন, দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হলে সেসব বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় পাবেন। অথচ চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা তখনো বোর্ড পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। ফলে ভর্তি যুদ্ধে তারা স্বাভাবিকভাবেই অনেক পিছিয়ে পড়বেন।
শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও প্রবেশপত্র হারানোর সংকট বিবেচনা করে একদল শিক্ষার্থী পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে পরীক্ষার বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মতে, দুর্যোগের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া অবশ্যই জরুরি। কিন্তু একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ একাডেমিক সময়সূচির বিষয়টিকেও অবহেলা করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা ঝুলিয়ে না রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সংশোধিত রুটিন প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষার্থীরা অন্তত নতুন করে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ পাবেন।




