সাংস্কৃতিক সংগঠক চন্দন দাশ আর নেই

সংগৃহীত ছবি
প্রবীণ বামপন্থী নেতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ডা. চন্দন দাশ মারা গেছেন। তিনি সাংস্কৃতিক গণসংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন।
উদীচী চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শীলা দাশগুপ্তা’র ভাষ্য, আজ শুক্রবার সকালে নগরীর পাথরঘাটায় নিজ বাসায় তিনি আকস্মিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অবশ্য ৭৪ বছর বয়সী চন্দন দাশ হৃদরোগে ভুগছিলেন। বাসায় শুধুমাত্র স্ত্রী ছিলেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে কানাডা প্রবাসী।
চন্দন দাশ পেশাগত জীবনে একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়।
ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা চন্দন উদীচীর পাশাপাশি চিকিৎসকদের গণসংগঠন ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের (ডেন), চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ছিলেন। যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাজনীতিতে। তিনি জেলা সিপিবির সদস্য ছিলেন।
তবে একজন পুরোধা সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের সর্বমহলে সমাদৃত ছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে চট্টগ্রামে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, প্রবর্তক সংঘসহ আরও বিভিন্ন সংগঠনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সংস্কৃতি অন্তঃপ্রাণ মানুষটির প্রয়াণে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে অনেকেই ছুটে গেছেন বাসায়।
আমৃত্যু আদর্শের সঙ্গে চন্দন দাশ আপস করেননি বলে জানালেন সিপিবির প্রাক্তন সভাপতি মোহাম্মদ শাহআলম। তিনি বললেন, ‘ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে বামপন্থী রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন চন্দন দাশ। চট্টগ্রামে উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। জীবনভর প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকেই আঁকড়ে থেকেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে অবিচল ছিলেন। মার্কসবাদী ছিলেন। সিপিবিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। পার্টিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় উনার দৃঢ় ভূমিকা ছিল। আমরা একজন দক্ষ সংগঠককে হারালাম।’
ডা. চন্দন দাশের মৃত্যুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহআলম ও বালাগাত উল্লাহ, চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অশোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, দক্ষিণ জেলার সভাপতি কানাই দাশ ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, জেলা কমিটির সহ-সভাপতি প্রবাল দে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্তা, ডেন চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. আরিফ বাচ্চু, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শুভ দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক নাবিল আহমেদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
উদীচীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়াতের মরদেহ আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় নগরীর চেরাগি পাহাড়ে আজাদী চত্বরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এর আগে সকাল ১০টায় নগরীর হাজারী লেইনে সিপিবি অফিসের সামনে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। বিদেশে অবস্থানরত সন্তানেরা দেশে ফেরার পর শেষকৃত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।








