‘চামড়া ও টাকা দুইটা রেখে দে তুই’

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের চৌমুহনী মোড়। প্রতিবারের মতো এবারও রাস্তার পাশে চামড়ার স্তূপ। একটি-দুটি করে চামড়া এনে এখানে বিক্রি করছেন লোকজন। ব্যাটারিচালিত রিকশাযোগে মধ্যবয়সী একজন নিয়ে এলেন দুটি বড় চামড়া। তাঁর নাম আতিকুর রহমান। পাশে প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে বসেছেন মো. দুলাল। পরেরজন চামড়ার ক্রেতা। চামড়া রিকশা থেকে নামানোর পর প্রথমে ৪০০ টাকা দিলেন আতিককে।
আতিকের জবাব, ‘চামড়া ও টাকা দুইটা রেখে দে তুই।’ দুলাল আর ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে নিজের ডায়েরি খুলে দেখালেন, ‘দেখ, কত টাকা করে চামড়া কিনেছি। তোমাকে বেশি দিলাম।’
এভাবে খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি চামড়া ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রামে। পাড়া থেকে চামড়া সংগ্রহকারী মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রথম দফায় বিক্রি করছেন বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে। সেখান থেকে যাচ্ছে নগরের আতুরার ডিপোর আড়তদারদের কাছে। তবে চামড়ার আগের সেই জৌলুস এখন নেই বলে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষ স্বীকার করছেন।
চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির এবারের লক্ষ্য গরু-মহিষের সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল হতে হতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া আড়তে যাওয়া শুরু হয়। তার আগে চৌমুহনী বাজারসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
এবার ঢাকার বাইরের জন্য প্রতি ফুট লবণযুক্ত চামড়া ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় যা ৬২ থেকে ৬৭ টাকা। চট্টগ্রামের আড়তদার সমিতির ৩৫ সক্রিয় সদস্যসহ প্রায় ১৫০ সংগ্রহকারী চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন আগেই। চামড়া আসার সঙ্গে সঙ্গে লবণ দেওয়ার কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।
চামড়া আড়তদার সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বললেন, ‘চামড়া আসতে শুরু করেছে। কী পরিমাণ এল, তা আগামীকাল বলা যাবে।’
তিনি আরও জানান, চামড়ার আগের জৌলুস নেই। এখন চামড়ার দাম খুব কম। খরচ এবং কেনা মিলে লাভ করা কঠিন। আমরা আগেই মৌসুমি ব্যবসায়ীদের চামড়া সংগ্রহের সময় দাম বুঝে কিনতে বলেছিলাম। যারা না বুঝে কিনবেন, তাঁরা ঠকবেন।
নগরের চৌমুহনী মোড়ে চামড়া নিয়ে বসেছেন ৭-৮ জন। সেখানে পাড়া থেকে চামড়া সংগ্রহ করে এনে দিচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। দুজন মৌসুমি ব্যবসায়ী জানালেন, চামড়ার দাম এখন খুব কম। গাড়ি ভাড়া ওঠে না। বড় চামড়া ২০০-২৫০ টাকার বেশি দিচ্ছেন না ক্রেতারা।
আরাফাত নামে একজন বসেছেন চামড়া নিয়ে। তিনি ২২টি চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এখন আড়তদার বা কোনো পাইকারি ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি জানান, তাঁর প্রতিটি চামড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেনা পড়েছে। কিছুটা বেশিতে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান হবে।
হাসান নামে অপর একজন ১০টির মতো চামড়া সংগ্রহ করে রাস্তার পাশে রেখেছেন। তিনি জানান, একসময় চামড়া নিয়ে কাড়াকাড়ি হতো। কয়েক হাত ঘুরত। তখন লাভও বেশি হতো। এখন দাম নেই।






