প্রতিষ্ঠানে হামলা
‘চাঁদা চাইনি, ব্যবসার পার্সেন্টেজ চেয়েছি’

সিসিটিভি ক্যামেরায় চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটারসহ আরও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করতে দেখা যাচ্ছে
চট্টগ্রাম নগরীর একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে নির্বিচারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের অভিযোগ, এককালীন দুই কোটি টাকা ও প্রতিমাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের অনুসারী ক্যাডারেরা এ হামলা করেছে।
আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর চকবাজার থানার বাকলিয়া এক্সেস রোডে ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ডিডিএন’র অন্যতম পরিচালক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল কবির জানালেন, সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের লোক পরিচয়ে ডেভিড ইমন তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদিল বিন মামুনকে গত শনিবার মোবাইলে কল করেন। বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল করে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় আজ দুপুরে তাদের অফিসে ১৫-২০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিতে গিয়ে তাণ্ডব চালায়। বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি অফিসে রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
‘পুলিশ কমিশনারকে ডেভিড ইমনের ছবি দেখিয়ে তিনি কে সেটা জেনে নিতে বলেন। স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের চন্দনপুরার বাসায় চাঁদা না পেয়ে গুলি করার কথা বলেন। আরও নানা হুমকি দেন’, বললেন রিদওয়ানুল কবির।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেল, মুখে মাস্ক পরিহিতি কয়েকজন তরুণ-যুবক কার্যালয়ে বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। তাদের চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটারসহ আরও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করতে দেখা যায়। কুড়ালের ভয় দেখিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিতেও দেখা গেছে।
রিদুয়ানুল কবিরের দাবি, চট্টগ্রামে আরও কয়েকটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বড় সাজ্জাদের নামে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। ডিডিএন’র ঘটনার পর থেকে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
চাঁদা দাবি ও হামলা-ভাঙচুরের সঙ্গে কারা জড়িত সেটা শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানালেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান প্রামাণিক। বললেন, ‘আমরা কারও নাম বলছি না। জড়িদের আইডেন্টিফাই করছি। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’
কে এই ডেভিড ইমন
চাঁদা দাবি করা ডেভিড ইমনের প্রকৃত নাম মোবারক হোসেন ইমন। বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়।
হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মোবারক হোসেন ইমন ডিডিএন’র মালিককে কল করে টাকা চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেন। আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমি কোনো চাঁদা চাইনি। ব্যবসার পার্সেন্টেজ চেয়েছি।’
আপনাকে কেন পার্সেন্টেজ দেবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে ইমন বললেন, ‘ওরা (ডিডিএন মালিক) একসময় বাকলিয়ায় দাঁড়াতে পারত না। ব্যবসা করা দূরের কথা। আমাদের নাম ব্যবহার করে, আমাদের শেল্টারে ব্যবসা করে এখন দাঁড়িয়ে গেছে। কথা ছিল ব্যবসার পার্সেন্টেজ দেবে। কিন্তু এক টাকাও দেয়নি। অনেক টাকা জমে গেছে। সেই টাকা দেওয়ার জন্য তাকে ফোন করেছিলাম।’
হামলা-ভাঙচুরের বিষয়ে ইমনের ভাষ্য, টাকা না দেওয়ার জন্য মালিকপক্ষ নিজেরাই লোকজন দিয়ে ভাঙচুর করে তার নামে অভিযোগ করছে।
যদিও ডিডিএন পরিচালক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল কবিরের ভাষ্য, ‘আমরা যারা এই প্রতিষ্ঠানে আছি, আমরা ছোট থেকে বড় হয়েছি এখানে। আমরা এলাকার ছেলে। কারও শেল্টার নিয়ে আমাদের ব্যবসা করতে হয় না। ২০০৫ সাল থেকে ব্যবসা করছি। আওয়ামী লীগের আমলেও করেছি। এর আগে বিএনপির আমলেও করেছি।’
ইমনের বিরুদ্ধে বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুন, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ মোট সাতটি মামলা আছে বলে পুলিশের তথ্য।






