সম্প্রীতি ও শান্তির চট্টগ্রাম গড়ার আহ্বান প্রশাসক শাহাদাতের

চট্টগ্রাম নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে থেকে সন্ধ্যায় তোলা ছবি। রনি দে, চট্টগ্রাম
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। আজ রবিবার সন্ধ্যায় নগরের বিভিন্ন বিহার থেকে ফানুস উড়ানো হয়। শহরের আকাশ ফানুসের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। প্রবরণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসবে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন সম্প্রীতি, শান্তি ও সাম্যের চট্টগ্রাম গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সন্ধ্যায় নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি বললেন, ‘আমরা চাই, চট্টগ্রাম হবে সব ধর্মের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ নগরী, সম্প্রীতির নগরী ও সাম্যের নগরী। আসুন, সবাই মিলে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তুলি।’
শাহাদাত হোসেন বললেন, ‘চট্টগ্রাম ঐতিহ্যগতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। এ নগরে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করবে। কোনো অপশক্তি যেন নগরীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যের বাণী উদ্ধৃত করে বললেন, গাহি সাম্যের গান—মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।
তিনি বললেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক নগরীতে পরিণত করতে হবে।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রশাসক বলেন, ‘নগরীর কালুরঘাট এলাকায় তাদের জন্য একটি জায়গা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
তিনি সবসময় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু, নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দিনটি উপলক্ষে সকাল থেকে বৌদ্ধবিহারগুলোতে ছিল নানা ধর্মীয় আয়োজন। বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, শীল গ্রহণ ও ধর্মীয় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবেন বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা। প্রবারণা পূর্ণিমা আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে টানা তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাবাস পালন করেন। ভিক্ষুদের বর্ষাবাসের সমাপ্তি ঘটে প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্য দিয়ে।
প্রবারণা পূর্ণিমার অন্যতম আকর্ষণ ফানুস ওড়ানো। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ান। এর মধ্য দিয়ে তারা ধর্মীয় শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দেশ, জাতি ও জীবজগতের মঙ্গল কামনা করেন। সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো শুরু হয়। রাত পর্যন্ত এই ফানুস উৎসব চলে।




