২১৭ কোটি টাকায় এআই ট্রাফিক সিস্টেম প্রকল্প নিচ্ছে চসিক

চট্টগ্রামের যানজট দূর করা ও সড়ক ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ‘স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। একইসঙ্গে নগর নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সড়কবাতি ও সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আরেকটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প দুটির জন্য প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্প দুটির বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। সভায় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘চট্টগ্রামকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।’
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানালেন, চসিকের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে এআইভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম। এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম নগরীর ৫৬টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন বা মোড় এবং ব্যস্ত ট্রাফিক জোনকে আধুনিক প্রযুক্তির অধীনে আনা হবে। এসব স্পটে স্বয়ংক্রিয় স্মার্ট সিগন্যাল, ট্রাফিক ফ্লো মনিটরিং ক্যামেরা, গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এএনপিআর), আইন লঙ্ঘন শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং রেড সিগন্যাল ডিটেক্টর বসানো হবে। পুরো শহরের যানবাহন চলাচল একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মেয়র বলেছেন, ‘এই সিস্টেমটি সম্পূর্ণ এআইভিত্তিক। কোনো যানবাহন ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করলে বা আইন ভঙ্গ করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিটেক্ট করা যাবে। এর ফলে যানজট কমবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতা কমে আসবে।’
৪৪৫ কোটি টাকায় ১৩০ কিমি সড়কজুড়ে ‘স্মার্ট পোল’
নিরাপদ নগরী গড়ার লক্ষ্যে চসিকের দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়কে সৌরবিদ্যুৎ চালিত অত্যাধুনিক এলইডি সড়কবাতি, ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সড়কবাতির খুঁটির সঙ্গে যুক্ত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক পুরো নগরীর নিরাপত্তা জোরদার করবে। রাস্তায় কোনো অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা দুর্ঘটনা ঘটলে তা কেন্দ্রীয়ভাবে তাৎক্ষণিক শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।
মেয়র জানান, সৌরবিদ্যুৎ চালিত স্মার্ট সড়কবাতি স্থাপনের ফলে চসিকের সড়কবাতি খাতের প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যয় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে।
এছাড়া এই সিস্টেমের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ প্রতিবন্ধকতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো নাগরিক সমস্যার বিষয়েও আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে। প্রকল্প দুটির চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে পুলিশ প্রশাসন, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার মতামত ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে ডিপিপি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান এবং প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।




