নানা আয়োজনে দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠী

চট্টগ্রামের দুর্গাপূজা মণ্ডপ
মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার মণ্ডপে মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেবী দুর্গার বোধন। এ উপলক্ষে পূজা অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধ্যা আরতির আনুষ্ঠানিকতা চলছে।
ঐতিহ্যবাহী পূজা মণ্ডপের পাশাপাশি বিভিন্ন পাড়া মহল্লার ছোটখাটো পূজাগুলোও আয়োজনে পিছিয়ে নেই।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় এবার ২ হাজার ২৭৪ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া নগরে ২৯৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে প্রতিটি মণ্ডপে এখন উৎসবের আমেজ। মর্তালোকে আবির্ভাবের পর দেবী দুর্গাকে পাঁচদিন ধরে পূজা করা হয়। মূলত মহালয়ার পর থেকে দেবীপক্ষের শুরু হয়। মহালয়ার এক সপ্তাহ পর দুর্গাপূজা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
পূজা উদ্যাপন পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি নিতাই প্রসাদ ঘোষ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পূজা আয়োজনের জন্য বিভিন্ন প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। আজ ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আমাদের পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে।’
শাস্ত্রমতে আজ মহাষষ্ঠীতে বোধনের মাধ্যমে দেবীকে জাগ্রত করা হয়। এর পর সপ্তমী তিথি থেকে দেবীকে পূজিত করা হয়। ষষ্ঠীর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চমী তিথি থেকে নগরের বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীরা ভিড় করতে থাকেন। পঞ্চমীতে বেশিরভাগ মন্দিরে প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। ষষ্ঠীর দিন সকালেও চলেছে নানা প্রস্তুতি। ষষ্ঠীর দিন দিনের বেলায়ও বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থী দেখা গেছে। সন্ধ্যা থেকে মণ্ডপগুলোতে দর্শনাথীর ভিড় বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
নগরের ঐতিহ্যবাহী পূজার মধ্যে রাজাপুর লেন সর্বজনীন দুর্গা উৎসব এবার তাদের হীরক জয়ন্তী পালন করছে। এ উপলক্ষে মহাষষ্ঠী তিথিতে শুক্রবার সকালে তারা একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করেছে। এ ছাড়া বড় বড় প্রতিটি মণ্ডপে থিম নির্ভর পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
চেরাগী পাহাড়ে প্রতিবারের মতো এবারও রাজাপুর-মোমিন রোড-জামালখান পূজা পরিষদ দুর্গা পূজার আয়োজন করে। তারা বুধবার চতুর্থী তিথিতে মণ্ডপে প্রতিমা বরণ করেছে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্চমী তিথিতে মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দক্ষিণ নালাপাাড়া সর্বজনীন দুর্গা পূজা পরিষদের এবারের থিমের নাম হচ্ছে আত্মকথন। লাইটিং, প্রতিমা এবং মিউজিকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে আত্মকথন থিম।
সভাপতি অলকেশ পাল জানান, আত্মকথন হচ্ছে নিজেদের কথা, সকলের কথা। শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, আয়োজনের পেছনের মানুষদের নানা শ্রম এবং মেধা তুলে ধরা হয়েছে।
পরিষদের নির্বাহী সদস্য রাজীব বিশ্বাস রাজা বলেন, ‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দুর্গাপূজা এগিয়ে চলছে। এক প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মের হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেন। এটা একটি ঐতিহ্যময় পরম্পরা। নতুনের পাশাপাশি শেকড়ের গল্প তুলে ধরা হবে এই থিমের মাধ্যমে। দুর্গাপূজা শুধু পূজা নয়, সৃজনশীল এবং সর্বজনীন একটা ব্যাপার। সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই পূজা সমৃদ্ধ হবে।’
এ ছাড়া নগরের খলিফাপট্টি পূজা পরিষদ এবারের থিমের নাম দিয়েছে রক্তাঞ্জলি। এই থিমের মাধ্যমে তারা নারীর প্রতি সহিংসতার নানা চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
উত্তর কাট্টলী সেবাখোলা বৈকুণ্ঠধামের পূজা মণ্ডপের এবারের থিম রিপু রজনী। এর মাধ্যমে মানুষের মনের ভেতরেই চলে ভালো ও মন্দের এক নীরব লড়াই। লোভ, মোহ, ক্রোধ, হিংসা, অহংকার ও কামনা— এই ষড়রিপু মানুষকে বারবার সত্য ও সুন্দরের পথ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। সাময়িক সুখের আশায় মানুষ কখনো কখনো নিজের বিবেক ও আত্মশুদ্ধির পথ ভুলে যায়। এ রকম একটা ভাবনায় এবারের থিম। নিজের ভেতরের অন্ধকারকে চিনে নিয়ে আলোর পথে ফেরার এক আত্মিক আহ্বান থাকবে এখানে।
নগরের হাজারি গলি, টেরিবাজার, উত্তর কাট্টলী কালিবাড়িসহ নানা মণ্ডপে থিম নির্ভর পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।



