বৃষ্টিতে পণ্য খালাস বন্ধ, কর্ণফুলীতে জাহাজের মিছিল

ছবি: আগামীর সময়
ছবি দেখে বিদেশ মনে হলেও আসলে বিদেশ নয়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে পণ্য বহনকারী ছোট ও মাঝারি জাহাজের নোঙর করে রাখার মিছিল। বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয় এসব জাহাজে ভরে। স্থানীয় ভাষায় লাইটার জাহাজ বলা হয়। একেকটির লাইটার জাহাজের ধারণক্ষমতা দুই হাজার ছয় হাজার টন।
চট্টগ্রামে দুদিন ধরে থেমে থেমে হালকা ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সমুদ্র উত্তাল। বহির্নোঙরে বিদেশি জাহাজ থেকে চাল, ডাল, গম, সিমেন্ট ক্লিংকারসহ বিভিন্ন পণ্য খালাসও বন্ধ রয়েছে। তাই বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে এসব অভ্যন্তরীণ রুটের লাইটার জাহাজ কর্ণফুলী নদীতে নিরাপদ নোঙর করে দাঁড়িয়ে আছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সহসভাপতি ও লাইটার মালিক মশিউল আলম স্বপন জানালেন, বৃষ্টি ও সাগর উত্তাল থাকায় গতকাল থেকে সিমেন্ট ক্লিংকার খালাস বন্ধ রয়েছে। তাই লাইটার জাহাজ নিরাপদ দূরত্বে ফেরত এসে নোঙর করেছে। বছরে ১০ কোটি টনের বেশি পণ্য দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছানো হয় এই লাইটার জাহাজ দিয়ে।
বহির্নোঙর থেকে কর্ণফুলীর মোহনা দিয়ে বন্দর পেরিয়ে কর্ণফুলী সেতুর কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে কয়েকশ লাইটার জাহাজ। বৃষ্টি থামলেই ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সরে যাবে এসব জাহাজ।
চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্পকারখানার গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগে ২২ ঘণ্টার মতো। আমদানি করা অধিকাংশ কাঁচামাল নৌপথেই পৌঁছায় বিভিন্ন অঞ্চলে।
এসব জাহাজের মালিক দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপ। এ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন লাইটার জাহাজ রয়েছে। আড়াই হাজার লাইটার জাহাজের মধ্যে অন্তত এক হাজার হলো বিভিন্ন শিল্পমালিকদের।




