এবার বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক বন্দর রক্ষা কমিটির

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রধান অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনসমূহ ও বেসিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে বন্দর রক্ষা কমিটির মতবিনিময়— রনি দে,চট্টগ্রাম
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে এবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। আগামী ৫ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মতবিনিময় সভা শেষে নতুন এই কর্মসূচির ডাক দেয় সংগঠনটি।
এনসিটি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারার প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সংগঠনটি এর আগে বন্দর অভিমূখে পদযাত্রা, মশাল মিছিলের মতো মাঠ গরমের মতো কর্মসূচি দিয়েছিল। সবগুলোই মাঝপথে থামিয়ে দেয় পুলিশ। বন্দর ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি এই প্রথম। তাদের এই কর্মসূচির আগে এনসিটি বিদেশিদের ইজারা কার্যক্রম বন্ধ করতে দুদিনের সময় বেঁধে দিয়েছে সরকারদলীয় বিএনপির শ্রমিক সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।
দুদিনের আলটিমেটাম শেষ হবে সোমবার। দাবি না মানলে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার বিশ্বরোড মোড় থেকে বন্দর ভবনের সামনের তিন নম্বর জেটির পাশে ওয়ানস্টপ সেন্টার পর্যন্ত মানববন্ধন করবে শ্রমিক দল। তাতে সাড়া মিললে ২৭ সেপ্টেম্বর বন্দরের ওয়ানস্টপ সেন্টার অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করবে। এরপরও দাবি না মানলে ২৮ সেপ্টেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণার সময় রেখেছে শ্রমিক সংগঠনটি। শ্রমিক দলের এই কর্মসূচির সাথে আছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ নামের আরেক সংগঠনও। শ্রমিক দলের সেই কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা আসলো।
রবিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সুলতান আহমদ হলে বন্দর রক্ষা কমিটি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
সভায় বক্তারা বললেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলনকে দুর্বলতা বিবেচনা করলে ভুল হবে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দাবি আদায়ে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচিও ঘোষণার করা হবে।
সভায় বক্তারা বললেন, বন্দরে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনে ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ দরকার। এই সংযোজনে ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগবে- এসব যুক্তি দেখিয়ে বন্দর পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা কোনো প্রয়োজন নেই। বন্দরের আর্থিক সক্ষমতা নেই, এমন যুক্তিও গ্রহণযোগ্য নয়। চট্টগ্রাম বন্দরের আয় থেকেই এর আগে পায়রা, পানগাঁও ও মাতারবাড়ীসহ বিভিন্ন বন্দর অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার জানান, দেশের কনটেইনার পরিবহনের বড় অংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৫ সালে দেশের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৫ শতাংশ এনসিটিতে হয়েছে। এ অবস্থায় এনসিটির পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে দেশের নিজস্ব পরিচালন সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান জানান, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু শ্রমিক-কর্মচারীদের বিষয় নয়, এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় সক্ষমতা জড়িত।
এর আগে মানববন্ধন, অবস্থানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সরকার থেকে কোনো ঘোষণা না এলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। আগামী ৫ অক্টোবরের অবস্থান কর্মসূচিতে শ্রমিক-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে প্রধান অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনসমূহ ও বেসিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে বন্দর রক্ষা কমিটির মতবিনিময়— রনি দে,চট্টগ্রাম



