চট্টগ্রামের আকাশে উজ্জ্বল রঙধনু

পূর্ব আকাশে রঙধনু। ছবি : রনি দে
কোথায়ও নীল আকাশ। আবার কোথাও মেঘে ঢাকা। এর ভেতর দক্ষিণ-উত্তরের দিগন্তবিস্তৃত আকাশজুড়ে এক ফালি রঙের উৎসব। তাও আবার বাঁকানো। দেখতে আধ-গোলাকার। সময় তখন ৫টা ৫০ মিনিট। ঠিক উল্টো প্রান্তে পশ্চিম আকাশ থেকে শেষ বিকেলের রোদের ঝিলিক।
চট্টগ্রামের মানুষ আকাশের এমন প্রাকৃতিক রূপ অনেক দিন দেখেনি। স্থায়িত্ব যত কম হোক না কেন, রঙধনুর উজ্জ্বল আভা ঠিকরে পড়েছে নগরজুড়ে।
দিনের আবহাওয়া বেশ তপ্ত ছিল। তা রোদ-বৃষ্টি-মেঘের ইঁদুর-বিড়াল খেলার মতোই। এর মধ্যে আকাশে এমন উজ্জ্বল রঙধনু মনপ্রাণ জুড়িয়ে দেয়। ৫ মিনিট স্থায়িত্বের এই নীল-হলুদ-লাল রঙের গোলাকার দৃশ্য যেন শিল্পীর পটে আঁকা ছবি। এতে কত প্রাণ, কত উচ্ছ্বাস আর আবেগের হোলিখেলা।
রঙধনু বাংলায়। ইংরেজিতে রেইনবো। এর অর্থ আবার অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা আছে। সাত রঙের সংমিশ্রনকে সংক্ষেপে বলা হয় ‘বেনীআসহকলা’। বেগুনি, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। সাত রঙের আভা দূর আকাশে খুব একটা অনুভূত হয় না। নীল-হলুদ-লাল রঙই বেশি দৃশ্যমান। আকাশে কেন হঠাৎ এমন রঙের উৎসব তাও আবার ক্ষণিকের।
এর এক বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যাও রয়েছে। রঙধনু তৈরি হয় সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানির ফোঁটা একসাথে কাজ করার কারণে। যখন বৃষ্টি হয় এবং একই সময়ে সূর্য আকাশে থাকে, তখন সূর্যের সাদা আলো বৃষ্টির প্রতিটি পানির ফোঁটার ভেতরে ঢুকে তিনটি ধাপে পরিবর্তিত হয়।
সূর্যের আলো দেখতে সাদা হলেও, এর মধ্যে অনেক রঙ লুকিয়ে থাকে। পানির ফোঁটা একটি ছোট প্রিজমের মতো কাজ করে। এর ফলে আলো ভেঙে এই সাতটি রঙ তৈরি হয় বিপরীত আকাশে।
রঙধনুর কোনো নির্দিষ্ট স্থায়িত্ব নেই। এটি কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর্যন্ত দেখা যেতে পারে। হালকা বৃষ্টির পর ১–৫ মিনিট, বৃষ্টি ও রোদ একসঙ্গে থাকলে ১০–৩০ মিনিট, স্থির বৃষ্টি, নিচু সূর্য, পরিষ্কার আকাশ ৩০–৬০ মিনিট বা তারও বেশি সময় দৃশ্যমান থাকে।






