চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও বিক্ষোভ, প্রধান ফটকে তালা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে চলছে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনও। প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসের ভেতরে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শুরু হয় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। ফটকের অদূরে শহীদ মিনার এলাকায় একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন, আর অন্য একটি দল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে এসে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সংহতি জানান। এ সময় ফটকের সামনে অবস্থানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাউকে কাউকে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
তাদের দাবি, নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন অনতিবিলম্বে বাতিল করে অধ্যাপক সায়েমকেই পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ ও অন্যান্য কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেছেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। যেকোনো সময় তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন-এমন আশঙ্কায় প্রধান ফটকে শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই নতুন উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
এর আগে গত সোমবার রাতে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে উপাচার্যের বাসভবন ও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকে সর্বাত্মক শাটডাউনের ডাক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় গত সোমবার তাঁকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা।




