প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ, ২৪ ঘণ্টাতেই ফের দখল ফুটপাত

ঝকঝকে-চকচকে পরিচ্ছন্ন ফুটপাত আবারও চলে গেছে দখলে। ছবি: আগামীর সময়
একদিন আগেও দৃশ্যটা ছিল অন্য রকম। ধুলো-বালি নেই, ফুটপাত ফাঁকা, রাস্তার দু’পাশে হকারের ভিড় নেই। ঝকঝকে-চকচকে পরিচ্ছন্ন ফুটপাত ধরে নির্বিঘ্নে হাঁটছিলেন পথচারীরা। সড়কজুড়ে নতুন রঙের ছোঁয়া, মোড়ে মোড়ে আলো— সব মিলিয়ে যেন বদলে যাওয়া এক চট্টগ্রাম।
তবে সেই রূপ টিকল না এক দিনও। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক দিনের চট্টগ্রাম সফর শেষ হতে না হতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আগের চেহারায় ফিরেছে নগরের ভিআইপি সড়ক কাজীর দেউড়ি থেকে রেডিসন ব্লু বে ভিউ ও স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকা। ফুটপাতে আবার ফিরেছে ভ্রাম্যমাণ হকার, ভিক্ষুক ও ভবঘুরেরা। কোথাও কোথাও পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। পথচারীদের চলাচলের জায়গা ঢেকে গেছে ভাসমান দোকানে।
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ভিআইপি রুট জুড়ে ছিল প্রশাসনের কড়া নজরদারি। কাজীর দেউড়ি থেকে রেডিসন ব্লু পর্যন্ত এলাকা হকার ও ভাসমান দোকান মুক্ত করে বাড়ানো হয়েছিল বাড়তি শোভা।
সে-সময়কার ঝকঝকে-তকতকে পরিবেশ দেখে জেগেছিল নগরবাসীর প্রত্যাশা। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মুরাদ চৌধুরী আক্ষেপ করে বললেন, ‘আহা, প্রধানমন্ত্রীর অফিসটা যদি চট্টগ্রামে হতো! মাঝে মাঝে যদি শহরটা একটু ঘুরে দেখতেন তিনি!’
কাজীর দেউড়ি থেকে স্টেডিয়ামের কাছে এই পথ নগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি সড়ক। এখানে রয়েছে পাঁচ তারকা হোটেল, সার্কিট হাউস, বিচারক, নৌবাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের বাসভবন এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকান। গুরুত্বপূর্ণ এই পথের ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকায় নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক হয়ে পড়ে। ফুটপাতের ওপর মশারি টানিয়ে রাতযাপন, মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন নারী ও পরিবার নিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা।
ভিআইপি সফরের আগে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফুটপাত যেভাবে ফাঁকা করা হয়েছিল, সফর শেষে তা আবার দখলে চলে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নগরবাসী।
এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘প্রশাসন চেয়েছে বলেই তারা সাময়িকভাবে সরে গিয়েছিল, আর এখন আবার তাদের প্রশ্রয়েই বসছে। আসল স্বার্থ কার, সেটা বুঝতে হবে। অথচ কষ্ট সইতে হচ্ছে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে।’
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বিশেষ কোনো আয়োজন ছাড়াও শহরের ফুটপাতগুলো পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত রাখা সম্ভব। কেবল ভিআইপি সফর ঘিরে না হয়ে, সারাবছর নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান চালালেই সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা যাবে।





