প্রথম সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্সের পরীক্ষা : ফি দেড় কোটি টাকা

আমদানি-রপ্তানি পণ্য ছাড়করণে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের নতুন লাইসেন্স দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। লাইসেন্স পেতে প্রায় তিন হাজার উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী আগামী ১৬ মে লিখিত পরীক্ষায় বসছেন। তিন ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষা, পরে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই কেবল পাবেন এই লাইসেন্স।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে আমদানি-রপ্তানি পণ্য ছাড় করতে প্রতিদিন ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার বিল জমা পড়ে। এসব বিলের বিপরিতে দিনে আড়াইশ কোটি টাকার রাজস্ব পায় কাস্টমস। আমদানি-রপ্তানিকারকের প্রতিনিধি হিসেবে সেই পুরো কাজ করেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। আর পণ্যছাড় শেষে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কমিশন পান এজেন্টরা। প্রথম ৫ লাখের জন্য ১ শতাংশ। পরবর্তী ৫ লাখের জন্য ০.৭৫ শতাংশ, তার পরবর্তী ৫ লাখের জন্য ০.৫০ শতাংশ। এরপর থেকে ০.২৫ শতাংশ হারে কমিশন পাবে।
রাজস্ব বোর্ডের ইতিহাসে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে আবেদন যাচাই-বাছাই করে নামমাত্র পরীক্ষা দিয়েই মিলতো লাইসেন্স।
নতুন লাইসেন্স দিতে কাস্টমসের যুক্তি হলো, কাজের ভলিউম-রাজস্ব আয় অনেক বেড়েছে, সে তুলনায় এজেন্ট বাড়েনি। প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে ভালো সেবা দিতেই এমন উদ্যোগ।
নতুন লাইসেন্স দেওয়ার বিরোধিতা করছে চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন। সংগঠনের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানি রিগ্যান বলছেন,১৯৯৯ সালের পর নতুন লাইসেন্স দেয়া হয়নি এটা ঠিক। চট্টগ্রাম কাস্টমসে ২ হাজার ৯০০ লাইসেন্সের মধ্যে সচল আছে মাত্র ৪০০। বাকিরা কাজ করে মাসে-ছমাসে দুটি। কাজ নেই বলেই তো বাকিরা বসে আছে। নতুন লাইসেন্স দেয়ার এ ঘটনা অসুস্থ প্রতিযোগিতা।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনও নতুন লাইসেন্স দেয়ার কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়ে রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দিয়েছে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স দিতে আবেদন আহবান করে রাজস্ব বোর্ডের গঠিত কমিটি। নির্ধারণ করে দেয়া হয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মালিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা। তখন আবেদন জমা পড়ে ৩ হাজার ৫৯টি। এরমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ হয় ২ হাজার ৯৮৭ আবেদন। এখন তারাই পরীক্ষা দিচ্ছে। মোট আবেদনের ১৭শ’র বেশি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের জন্য।
লাইসেন্স প্রদান কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম কাস্টমস ট্রেনিং একাডেমির মহাপরিচালক ম. সফিউজ্জামান জানান, এবারের বৈশিষ্ট হচ্ছে সারাদেশের আবেদনকারীরা একস্থানে তিন ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষায় বসছেন। এরপর মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আবেদন অনুযায়ী কাস্টমসে কাজের সুযোগ পাবেন।
লাইসেন্স পরীক্ষায় আবেদনের জন্য প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা সরকারি ফান্ডে জমা দিতে হয়েছে। সে হিসেবে ৩ হাজার ৫৯ আবেদনকারীর কাছে রাজস্ব বোর্ড এক কোটি ৫৩ লাখ টাকা আয় করেছে। এই টাকা থেকে পুরো পরীক্ষা কার্যক্রমে খরচ হবে। বাকিটা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
উত্তীর্ণ আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকার জামানত দিয়েই লাইসেন্স পাবেন। আর আবেদনের জন্য ন্যূনতম ডিগ্রি পাশ হতে হবে।




