ধুলোবালি ঝেড়ে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় চট্টগ্রাম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে পরিষ্কার করা হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরী— রনি দে
কদিনের মেঘ-বৃষ্টি কেটে চট্টগ্রামের আকাশে কড়া রোদ। পাহাড়-নদী, সাগরের শহর হাসছে রোদের দেখা পেয়ে। নগরের লালখান বাজার মোড় থেকে কাজির দেউড়ি, আসকার দিঘীর পাড় হয়ে জামালখান। এ পথে নিত্য যাতায়াত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মুরাদ চৌধুরীর। আজ সকালে বেরিয়ে পথটিকে বড় অচেনা মনে হলো তার। রাস্তায় ধুলোবালি নেই। সড়ক বিভাজকগুলো সেজেছে নতুন সাজে। শহর যেন ফুলের বাগান। ফুটপাতে নেই ভাসমান দোকান।
জন্মশহরের এমন নির্ঝঞ্ঝাট পরিচ্ছন্ন রূপ দেখে বিস্মিত মুগ্ধ মুরাদ চৌধুরী। পত্রিকার পাতায় চোখ বুলিয়ে জানতে পারলেন, আগামীকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন চট্টগ্রামে। ‘আহা, প্রধানমন্ত্রীর অফিসটা যদি চট্টগ্রামে হতো! মাঝে মাঝে তিনি যদি শহরটা একটু ঘুরে দেখতেন!’ হেসে বললেন নিজের গাড়ির ড্রাইভারকে।
সরকার গঠনের পর প্রথমবার চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রীতি অনুযায়ী চট্টগ্রাম শহরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সিটি মেয়র আগামীর সময়কে জানালেন, আবহাওয়ার বিষয় মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুইভাবে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর প্রস্তুতির কথা সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে। একটি হচ্ছে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে সরাসরি কক্সবাজারের মহেশখালী যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে চট্টগ্রামে আসবেন। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় জহুরুল হক বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর সড়কপথে কর্ণফুলী টানেল হয়ে মহেশখালী যাবার বিকল্প পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
তবে সন্ধ্যায় রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে সাংগঠনিক বৈঠক এবং রাতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ঢাকায় ফেরার বিষয়টি চূড়ান্ত বলে জানালেন মেয়র।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে। সিটি করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য যাত্রাপথে সড়ক সংস্কার করেছে। সড়ক বিভাজকগুলো রঙ করা হয়েছে। মাঝখানের বিভাজক থেকে আগাছা ও আবর্জনা পরিস্কার করে ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। গাছের অপ্রয়োজনীয় ডালপালা কাটা হয়েছে। ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে। নিয়মিত পানি ছিটিয়ে রাস্তা পরিস্কার রাখা হচ্ছে। দুই শিফটে ৩০০ জন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন বলে জানালেন উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বললেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শহরের প্রায় ১৯৬ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুটিন ওয়ার্কের আওতায় সেগুলো মেরামতের কাজ আমরা শুরু করেছি। মোহরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত রোড ডিভাইডারে ফুল-ঔষধি গাছের চারা লাগানো হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেসব সড়ক দিয়ে যাবেন, সেখানে কাজগুলো দ্রুততার সাথে করে ফেলা হয়েছে। নতুন করে কোনো প্রকল্প নিয়ে কিছু করা হয়নি।’
আজ শনিবার বিকালে নগরীর কাজীর দেউড়ি, লালখান বাজার, টাইগারপাস হয়ে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে ব্যস্ত দেখা গেছে। তবে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন সেভাবে চোখে পড়েনি। মেয়র জানালেন, তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিষেধ আছে। শুধুমাত্র সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে হোটেল রেডিসনের পাশে স্টেডিয়াম গেইটের সামনে একটি তোরণ করা হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম বললেন, ‘শাহ আমানত বিমানবন্দর হয়ে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম ত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত। বিমানবন্দর মোড় থেকে ভিআইপি রোড পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার সড়ক মেরামত করা হয়েছে। বোট ক্লাব থেকে এয়ারপোর্টে আসার বিকল্প রুট ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সেই রাস্তাও সংস্কার করা হয়েছে।’
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানালেন, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য সাতটি ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে। ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘীর মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। তিন উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন।
সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন আগামীর সময়কে জানালেন, রেডিসন হোটেল থেকে বিমানবন্দরে যাবার রুট শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে।
নগর ও জেলা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নগরী ও জেলায় পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৬ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে।







