থিম কেকেও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

ছবি: রনি দে
বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা কেবল জার্সি বা পতাকা ওড়ানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বকাপের প্রিয় দেশের পতাকার রঙে তৈরি হচ্ছে হরেক রকম থিম কেক। সমর্থকদের উন্মাদনা ও উদ্দীপনার কথা মাথায় রেখে প্রতিবারের মতো এবারও এই থিম কেক তৈরি করেছে কিংস কনফেকশনারি।
দুই যুগ ধরে ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই এই ধরনের কেক তৈরিতে মন দেয় বেকারিটি। যা ফুটবলপ্রেমীদের উৎসবে যোগ করে নতুন মাত্রা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে এখন পর্যন্ত ছয়টি দেশের কেক তৈরি করে তাদের বিভিন্ন শোরুমে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আর তাতে ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থাকবে না, তা কি হয়! এ ছাড়া পর্তুগাল, ফ্রান্স, মরক্কো ও ইরানের পতাকার ডিজাইনে কেক তৈরি করা হয়েছে। আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এবারের বিশ্বকাপ আসরে খেলা হবে নতুন একটি ফুটবল দিয়ে। ওই ফুটবলের আদলেও কেক তৈরি করা হয়েছে।
কিংস কনফেকশনারির চট্টগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট এরিয়া ইনচার্জ এনামুল হক জানান, বাজারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থিমের কেকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ম্যাচ শুরুর আগে এবং প্রিয় দল জয়ের পর ভক্তরা উদ্যাপনের জন্য এসব কেক নিয়ে যান। গতবার আর্জেন্টিনা শিরোপা জয়ের পর প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত থিম কেকের চাহিদা তুঙ্গে ছিল।
শুধু দেশের পতাকার রঙে নয়, পছন্দের খেলোয়াড় মেসি, রোনালদো, নেইমার ও এমবাপ্পের ছবিও কেকে ব্যবহার করা হয়। ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী মূলত এসব কেক বানানো হয়। ২০০২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে তারা প্রথম এমন থিম কেক তৈরির উদ্যোগ নেয়।
কিংস কনফেকশনারির বিক্রেতারা জানান, বিশ্বকাপের সময় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪টি থিম কেক বিক্রি হয়। কখনো তা আরও বেশি হয়। সাধারণত ১ কেজি ওজনের কেকই বেশি বিক্রি হয়। তবে অর্ডার পেলে তারা ৫ কেজি ওজনের কেকও তৈরি করেন। গতবার আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ৫ কেজি ওজনের একটি আর্জেন্টিনা থিম কেক বিক্রি হয়েছিল।
সাধারণত ১ কেজি ওজনের কেকের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। তবে গ্রাহক মিক্সড ফ্লেভার নিতে চাইলে দাম পড়ে ৩ হাজার ১০০ টাকা। কেকের ওপরের পতাকার ছবিগুলো সাধারণ ক্রিম দিয়ে তৈরি নয়। এগুলো ‘এডিবল হোয়াইট চকলেট’-এর স্তর দিয়ে তৈরি করা হয়।
যদিও বাচ্চারাই এই কেকগুলোর প্রধান ভক্ত, তবে বিশ্বকাপের সময় বড়দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। ব্যক্তিগত জন্মদিন বা বিশেষ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন করপোরেট অফিসও এই থিম কেক নিয়ে যায়।
বিশ্বকাপ মানেই হার-জিতের লড়াই। সেই লড়াইয়ের আনন্দকে আরও আকর্ষণীয় ও স্মরণীয় করে তুলতেই এই অভিনব আয়োজন বলে জানান তারা।






